শরীয়তপুরে বিস্ফোরক মামলার পলাতক আসামী প্রকাশ্যে ফুলের মালা পরালো বিএনপি প্রার্থীকে
শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার বিলাসপুরে ইউনিয়নে সম্প্রতি সময়ে ককটেল(হাতবোমা) বানাতে গিয়ে বিস্ফোরণে তিনজনের নিহতের ঘটনায়
হওয়া মামলার প্রধান ও পলাতক আসামী আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থীকে প্রকাশ্যে ফুলের মালা পরিয়ে দেয়ার ঘটনা ঘটেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ০৮ জানুয়ারি ভোরে জাজিরা উপজেলার বিলাসপুর ইউনিয়নের মুলাই বেপারি কান্দি এলাকায় একটি বসতঘরে ককটেল বোমা বানানোর সময় বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে প্রথমে একজন ও পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও দুজনের মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে জাজিরা থানায় বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়। ওই মামলায় ১নং আসামী করা হয় বিলাসপুরের মূলাই বেপারী কান্দি গ্রামের গনি বেপারীর ছেলে নুরুল ইসলাম বেপারীকে এবং ২,৩ ও ৪ নং আসামী করা হয় নুরুল ইসলামের আপন ভাই যথাক্রমে ছিদম বেপারী, ইদ্রিস বেপারী ও বিলাসপুরের ইউপি চেয়ারম্যান কুদ্দুস বেপারীকে। পরে ওই মামলায় নুরুল ইসলামের ভাই ছিদম বেপারীসহ ১১ জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। বাকী আসামীরা এখনো পলাতক রয়েছে।
স্থানীয়রা জানায়, বিস্ফোরণ ঘটনা ও মামলার পরে গা ঢাকা দেয় নুরুল ইসলামসহ অন্যান্য আসামীরা। তবে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা কম থাকায় নুরুল ইসলাম সহ অন্যান্য আসামীরা মাঝেমধ্যেই এলাকায় এসে বিভিন্নজনকে হুমকি ও নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড করে যাচ্ছে। এছাড়া রাজনৈতিক ব্যক্তিদের ছত্রছায়ায় এলাকায় এসে নির্বাচনী প্রচার প্রচারণায় অংশগ্রহণও করছেন। এরই ধারাবাহিকতায় গত শুক্রবার(০৬ ফেব্রুয়ারি) শরীয়তপুর-১ আসনে বিএনপি মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী সাঈদ আহমেদের নির্বাচনী প্রচারণায় প্রকাশ্যে অংশগ্রহণ করে ওই প্রার্থীকে ফুলের মালা পরিয়ে দেয়।
প্রার্থীকে ফুলের মালা পরিয়ে দেয়ার ১২ সেকেন্ডের একটি ভিডিওটি পরে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ছড়িয়ে পরলে এলাকায় ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়। ওই ভিডিওতে দেখা যায়, পলাতক আসামী নুরুল ইসলাম বেপারী বিএনপির প্রার্থী সাঈদ আসলামকে একটি ফুলের মালা পরিয়ে দিচ্ছেন। এসময় জাজিরা উপজেলা বিএনপির সভাপতি বজলুর রশিদ শিকদার উপস্থিত ছিলেন।
জাজিরা থানা সূত্র জানায়, পলাতক আসামী নুরুল ইসলামের নামে বিস্ফোরক আইনে ৭টিসহ দাঙ্গা-হাঙ্গামার মোট- ১১টি মামলা রয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিলাসপুরের একাধিক বাসিন্দা জানান, এলাকায় আধিপত্য বিস্তারে নুরুল হকের বড় ভূমিকা রয়েছে। তবে রাজনৈতিক ফায়দা নিয়ে নুরুল ইসলাম এলাকায় প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী সঠিকভাবে তদারকি করলে এদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা সম্ভব।
বিষয়টি নিয়ে জানতে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সাঈদ আহমেদের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
জাজিরা উপজেলা বিএনপির সভাপতি বজলুর রশিদ শিকদারের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, ‘ভোটের সময় এলাকায় থাকবেনা কোথায় থাকবে। সরকার তো ভোট দিতে কয়, তাহলে দোষের কি?’
এবিষয়ে জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার(ক্রাইম এন্ড অপস্) তানভীর হোসেন বলেন, ‘‘পলাতক আসামী নুরুল ইসলাম এক প্রার্থীকে নির্বাচনী প্রচারণার সময় প্রকাশ্যে মালা পরানোর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে দেখেছি। নুরুল ইসলামকে আইনের আওতায় আনতে পুলিশ তৎপর রয়েছে।’’





