সিরাজগঞ্জে সেনাবাহিনীর গাড়ি থেকে হ্যান্ড মাইকে জামায়াত কর্মী-ভোটারদের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের অভিযোগ
ওয়াসিম সেখ,সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি:
সিরাজগঞ্জে সেনাবাহিনীর গাড়ি থেকে হ্যান্ড মাইকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর এজেন্ট, কর্মী ও ভোটারদের বিরুদ্ধে মিথ্যা কুৎসা রটনার অভিযোগ তুলে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত সিরাজগঞ্জ-২ (সদর-কামারখন্দ) আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী মুহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম।
বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৯টায় অভিযোগ দায়ের করা হয়। এ সময় জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে ব্যাপক হট্টগোলের সৃষ্টি হয়।
অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) রাত ১১টা ১৫ মিনিটে সিরাজগঞ্জ পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের রহমতগঞ্জ ও কাঠেরপুল এলাকায় সেনাবাহিনীর দুটি গাড়ি থেকে হ্যান্ড মাইকে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের এজেন্ট, কর্মী ও ভোটারদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হয়। সেখানে নাম উল্লেখ করে তাদের ‘অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী’ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয় এবং তাদের সন্ধান পেলে সেনাবাহিনীর ক্যাম্পে জানাতে বলা হয়।
সংবাদ পেয়ে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকধারী প্রার্থীসহ জামায়াতের নেতাকর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয় দোকানদার, রিকশাচালক, ভ্যানচালক ও উপস্থিত সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলেন। তারা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন বলে আবেদনে দাবি করা হয়। পরে নেতৃবৃন্দ রহমতগঞ্জ গ্রামের ভেতরে গিয়ে নিজেদের নেতাকর্মীদের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন।
অভিযোগ দায়েরের পর কালেক্টর চত্বরে সংবাদ সম্মেলন করে সিরাজগঞ্জ জেলা জামায়াতে ইসলামী।
এ সময় জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি মোঃ শহিদুল ইসলাম প্রশাসনের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তুলে বলেন, আমরা খবর পেয়ে সেনা ক্যাম্পে যাই। তারা কিসের ভিত্তিতে মাইকিং করেছে, তার কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। সেনাবাহিনী আমাদের প্রতিপক্ষ প্রার্থীর হয়ে কাজ করছে। রাতের আঁধারে প্রতিপক্ষ প্রার্থীদের এনে মিটিংও করেছে।
সিরাজগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী মুহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম বলেন, সেনাবাহিনী মাইকিং করে জামায়াত ইসলামীর এজেন্টদের নাম ধরে ধরে ঘোষণা করেছে-এরা অস্ত্রধারী। এদের যেখানেই পাওয়া যাবে সেনাবাহিনীতে খবর দিতে বলা হয়েছে। আমরা সেনাবাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগ করেছি, তারা কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। আমরা প্রশাসনকে জানিয়েছি। তারা তদন্ত করে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন।
এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মোঃ আমিনুল ইসলাম বলেন, জেলায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভালো রয়েছে। যে বিষয়ে আমাদের কাছে অভিযোগ এসেছে, তা নিয়ে ইতিমধ্যে আলোচনা হয়েছে। আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে আশা করছি।





