সারাদেশ

বিএনপি নেতার গুদাম থেকে ভর্তুকির পণ্য পাচার—জনতার হাতে ভ্যানসহ আটক ২

জাহিদুল ইসলাম (জাহিদ) স্টাফ রিপোর্টার।
জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)–এর ১২ বস্তা ভর্তুকিমূল্যের পণ্য অন্য জেলায় পাচারের সময় জনতার হাতে ক্রেতা ও ভ্যানসহ দুইজন আটক হয়েছে।
বৃহস্পতিবার ইফতারের আগে আনুমানিক ৫:৫০ মিনিটে উপজেলার উদয়পুর ইউনিয়নের মোসলেমগঞ্জ বাজারের মেসার্স সরকার টেডার্স এর স্বত্বাধিকারী, উদয়পুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মতিন সরকারের গোডাউন থেকে ভ্যানে করে বহনের সময় বিপুল পরিমাণ টিসিবির পণ্য পাওয়া যায়। পরে বিষয়টি উপজেলা প্রশাসন ও থানা পুলিশকে জানানো হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে জব্দকৃত মালামাল এবং ভ্যানসহ আটক দুজনকে গ্রেফতার করে থানায় নেওয়া হয়।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন- মালামাল ক্রেতা বগুড়া সদর উপজেলার লোকমান হোসেনের ছেলে বেলাল হোসেন (৫২) এবং পণ্য বহনকারী ভ্যানচালক গাইবান্ধা জেলার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার কামদিয়া গ্রামের বাসিন্দা রতন মিয়া (৫৩)। ক্রেতা বেলাল হোসেন গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার কামদিয়া গ্রামে শাহীন নামের এক ব্যক্তির পুকুর দেখভাল করার দায়িত্বে থাকায় তিনি সেখানেই থাকেন বলে জানাগেছে ।

জব্দকৃত মালামালের মালামালের মধ্যে ছিলো – ২ লিটার সরিষা তেলের বোতল ৯৭ পিচ, চিনি ২ বস্তা (১০০ কেজি), চাল ১ বস্তা (৩০ কেজি), মসুর ডাল ২ বস্তা (১০০ কেজি), ছোলা বুট ২ বস্তা (১০০ কেজি) ও পণ্য বহনকারী ব্যাটারি চালিত ভ্যান ১ টি ।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, টিসিব ডিলার মেসার্স সরকার ট্রেডার্স এর স্বত্বাধিকারী আব্দুল মতিন সরকারের মোসলেমগঞ্জ বাজারের গুদামঘর থেকে সন্ধ্যার আগ মুহূর্তে ভ্যান ভর্তি টিসিবি পণ্য নিয়ে কামদিয়া বাজারে যাওয়ার সময় মোসলেমগঞ্জ বাজারের বিএনপির মোড় নামক স্থানে ভ্যানটি গর্তে পরে উল্টিয়ে যায় এবং ভ্যানে থাকা মালামাল পরে যাওয়ায় উপস্থিত জনতা বস্তায় টিসিবির পণ্য দেখতে পায়। পরে তারা টিসিবির ১২ বস্তা মালামালসহ দুই ব্যক্তিকে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদে আটকে রাখে। পরে পুলিশ এসে তাদের গ্রেফতার করে জব্দকৃত মালামাল সহ থানায় নিয়ে যায়।

স্থানীয়রা বলছেন,দরিদ্র মানুষের জন্য বরাদ্দ সরকারি ভর্তুকির পণ্য দিনের আলোতেই গুদাম থেকে বের করে পাচার—এটি শুধু দুর্নীতি নয়, এটি সরাসরি সাধারণ মানুষের হক লুট।

গ্রেফতারকৃত ভ্যান চালক রতন মিয়া বলেন, ৬ মনের মত মালামাল মোসলেমগঞ্জ বাজার থেকে কামদিয়া বাজারে নেওয়া হবে বলে বেলাল হোসেন আমার ভ্যান ভাড়া করে। মতিন সরকারের ঘর থেকে মালামাল গুলো নিয়ে কামদিয়ার উদ্দেশে রওনা দিলে বাজার থেকে বের হবার পথে ভ্যানগাড়ি উল্টে যায়। তখন বস্তা থেকে মালগুলো বের হলে লোকজন বলে এসব টিসিবির মালামাল তখন আমি জানতে পারি।

উদয়পুর ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম্য পুলিশ শহিদুল ইসলাম বলেন, টিসিবির মালামাল দেখে আমি ভ্যানসহ তাদের আটকে দিলে মতিন সরকারের নাতি এসে আমাকে মারধর করে। এবং মতিন সরকার আমাকে দেখে নেওয়ার হুমকি দেয়। আমি সুষ্ঠু বিচার চাই।

ইউপি সদস্য লালমিয়া বাদশা ও নুরনবী বলেন, জনতা পাচার হওয়া টিসিবি’র পণ্যগুলো আটক করে আমাকে খবর দিলে আমি ইউএনও কে বিষয়টি অবিহিত করি। তিনি আমাকে ১২ বস্তা মালামাল এবং আটকদের ইউনিয়ন পরিষদে হেফাজতে নিতে বলে। তারা বলেন, ঘটনাস্থলে মতিন সরকার এসে আমাদের নানা হুমকি ধামকি দেয় এবং তার নাতি গ্রাম্য পুলিশ শহিদুলকে বেধড়ক মারপিট করে। তারা এ অন্যায়ের যাথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা সহ সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন।

টিসিবি’র ডিলার, মুক্তিযোদ্ধা ও বিএনপির সাবেক ইউনিয়ন সভাপতি আব্দুল মতিন সরকার বলেন, “এসব পণ্য আমার। এগুলো কোথায় যাবে তা বলার প্রয়োজন মনে করছি না। আপনার যা করার তা করতে পারেন। আর মালামাল আটক করে কি বাল করতে পারে তাও দেখা যাবে।”

কালাই উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) শামীম আরা বলেন, “ঘটনার বিষয়ে অবগত হয়েছি। ডিলারের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

ভর্তুকিমূল্যের টিসিবি পণ্য পাচারের এই ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, মতিন সরকারের রাজনৈতিক ও মুক্তিযোদ্ধার পরিচয়ের আড়ালে দীর্ঘদিন ধরেই এমন অনিয়ম চললেও কেউ মুখ খুলতে সাহস পায়নি। এ ঘটনায় ডিলারের লাইসেন্স বাতিল এবং সে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা কিনা তা খতিয়ে দেখাসহ তারা দোষীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may also like

সারাদেশ

মৌলভীবাজার জেলা ছাত্রলীগের প্রচার সম্পাদক হলেন সাব্বির আহমেদ সামাদ

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি: মৌলভীবাজার জেলা ছাত্রলীগের নতুন কমিটিতে প্রচার সম্পাদক পদে দায়িত্ব পেয়েছেন জেলার একনিষ্ঠ ও ত্যাগী ছাত্রনেতা সাব্বির আহমেদ সামাদ।
সারাদেশ

বদলে যাচ্ছে র‌্যাব: পরিবর্তন হচ্ছে নাম, লোগো ও পোশাক

নতুন রূপে আসছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)। এ বাহিনীর নাম, লোগো ও পোশাক পরিবর্তনের পরিকল্পনা করা হয়েছে। শুধু তা-ই নয়,