সিরাজগঞ্জে দোকানে হামলা ও ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে জখমের মামলায় প্রধান আসামি পুলিশ সদস্য গ্রেফতার হয়নি
ওয়াসিম সেখ, সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি:
সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার কালিয়াহরিপুর ইউনিয়নের বিয়াড়াঘাট এলাকায় প্রকাশ্যে একটি মনোহারী দোকানে হামলা চালিয়ে ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে গুরুতর জখম ও তার স্বজনদের মারধরের ঘটনায় দায়ের করা মামলার এক মাস পার হলেও প্রধান আসামি পুলিশ সদস্য এখনো গ্রেফতার হয়নি। গাজীপুর হাইওয়ে থানায় কর্মরত পুলিশ কনস্টেবল মো. রুবেল এই মামলার প্রধান আসামি হওয়ায় তাকে গ্রেফতার না করে প্রভাব খাটিয়ে আড়াল করা হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলেছেন ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয়রা।
ঘটনাটি ঘটে গত ৮ ফেব্রুয়ারি রোববার সকালে। অভিযোগ রয়েছে, পূর্ব বিরোধের জেরে পুলিশ সদস্য রুবেল কয়েকজন সহযোগীকে সঙ্গে নিয়ে ধারালো অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা হাতে স্থানীয় একটি মনোহারী দোকানে ঢুকে অতর্কিত হামলা চালান।
হামলায় রামগাতী গ্রামের ব্যবসায়ী মো. বাবলু মন্ডল গুরুতর আহত হন। তার মাথায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপ দেওয়া হয়। এছাড়া তার ভাই মো. হযরত মন্ডলের হাত ভেঙে যায় এবং পরিবারের আরও কয়েকজন সদস্য আহত হন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
ঘটনার সময় দোকানে থাকা সিসিটিভি ক্যামেরায় হামলার পুরো দৃশ্য ধরা পড়ে। ফুটেজে দেখা যায়, পুলিশ সদস্য রুবেল কয়েকজন সহযোগীকে নিয়ে দোকানে ঢুকে এলোপাতাড়িভাবে হামলা চালাচ্ছেন এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপাচ্ছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, অভিযুক্ত রুবেল পুলিশ সদস্য হওয়ায় তার প্রভাব ব্যবহার করে ভুক্তভোগীদের মামলা তুলে নিতে বিভিন্নভাবে চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে। এছাড়া তার পরিবারের বিরুদ্ধে সরকারি জায়গা দখল করে মার্কেট নির্মাণের অভিযোগও রয়েছে বলে দাবি করেছেন এলাকাবাসী।
ভুক্তভোগী পরিবার জানায়, হামলার সুস্পষ্ট প্রমাণ ও সিসিটিভি ফুটেজ থাকার পরও প্রধান আসামিকে এখনো গ্রেফতার করা হয়নি। এতে তারা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। দ্রুত তাকে গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তারা।
অন্যদিকে রুবেলের পরিবারের সদস্যরা দাবি করেন, ঘটনার আগের দিন ৭ ফেব্রুয়ারি সকালে রুবেলের বাবাকে মারধর করা হয় এবং ঘটনার দিন সকালে তার চাচাকেও মারধর করা হয়। এ ঘটনার জেরে ক্ষুব্ধ হয়ে তারা প্রতিপক্ষকে মারধর করেন।
এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. হাফিজুর রহমান বলেন, “মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে। আসামি যেই হোক না কেন, কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।
সিরাজগঞ্জ সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মো. মামুন ইমতিয়াজ জানান, দুই পক্ষের মোট তিনটি মামলা হয়েছে এবং তিনটিই রেকর্ড করা হয়েছে। ছাব্বির হোসেন আদালতে দায়ের করা মামলায় প্রধান আসামি পুলিশ কনস্টেবল রুবেল ছাড়া অন্য আসামিরা জামিনে রয়েছেন। রুবেলকে গ্রেফতারের জন্য ইতোমধ্যে তার কর্মস্থলে বার্তা পাঠানো হয়েছে এবং তাকে দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।





