কুমিল্লায় আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে অবস্থান কর্মসূচি পালিত।
খন্দকার মহিবুল হক, কুমিল্লা।
জাতি-ধর্ম-বর্ণ, ভাষা, নৃতাত্ত্বিক পরিচয়, রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবস্থান নির্বিশেষে সকল নারীর অর্জনের প্রতি সম্মান ও শ্রদ্ধা প্রদর্শনসহ কোনো ধরনের বিভাজন ও ভেদাভেদ ব্যতিরেকে সকলের সম-অধিকার ও মানবাধিকার নিশ্চিত করাই দিবসটি উদযাপনের মূল লক্ষ্য বলে মন্তব্য করেছেন সচেতন নাগরিক কমিটির (সনাক) কুমিল্লার সভাপতি অধ্যাপক নিখিল চন্দ্র রায়।
রোববার বিকালে (০৮ মার্চ) কুমিল্লা নগরীর বাদুরতলায় “নারী ও কন্যা শিশুর অধিকার ও ন্যায়বিচার নিশ্চিতে রাজনীতি ও নির্বাচনে নারীর সমান প্রতিনিধিত্ব চাই” শ্লোগানে আন্তর্জাতিক নারী দিবস ২০১৬ উপলক্ষে আয়োজিত অবস্থান কর্মসূচিতে তিনি এ কথা বলেন। তিনি আরও বলেন, সাম্প্রতিক পত্রিকার সংবাদ এর উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, সীতাকুন্ড পাহাড়ে শিশু ইরাকে ধর্ষণ করে হত্যা করা হলো। বর্তমানে যে সকল সহিংসতা হচ্ছে তার মূলেও নারী নির্যাতন। কাজেই আমাদের কিন্তু পারিবারিক ভাবে এ সকল বিষয়ে সচেতন হতে হবে। তিনি দুর্নীতিতে নারীরা বেশী হয়রানির শিকার হয় বলেও মত প্রকাশ করেন।
অবস্থান কর্মসূচিতে সংহতি প্রকাশ করে বক্তব্য রাখেন, বিশিষ্ট ক্রিয়া সংগঠক বদরুল হুদা জেনু, কুমিল্লার জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ইয়াসমিন রিমা, এইড কুমিল্লার নির্বাহী পরিচালক রোকেয়া বেগম শেফালী, প্রত্যয় নির্বাহী পরিচালক মাহমুদা আক্তার, অ্যাডভোকেট শামীমা আক্তার জাহান, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের সাবেক উপ পরিচালক সেলিনা আক্তার, অধ্যক্ষ বিধান চন্দ, বিশিষ্ট ব্যাংকার সেলিম মাওলা, ওয়াডব্লিউসিএর প্রোগ্রাম ম্যানেজার নেলী রানী দে প্রমুখ।
বক্তারা, বায়ান্নর ভাষার আন্দোলন থেকে শুরু করে ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান, মহান মুক্তিযুদ্ধ, নব্বইয়ের স্বৈরাচার পতন ও সর্বশেষ চব্বিশ-এর জুলাই গণঅভ্যুত্থানে এদেশের নারী সমাজের সম-অবদান রয়েছে। বিশেষ করে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে পতিত কর্তৃত্ববাদের পতনে সর্বস্তরের নারীর অংশগ্রহণ ছিলো অভূতপূর্ব। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সূচনালগ্ন থেকেই নারী শিক্ষার্থীরা একদিকে যেমন নেতৃত্ব প্রদান করেছে, তেমনি সারাদেশে আন্দোলন ছড়িয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছেলে ও মেয়ে নির্বিশেষে অধিকাংশ শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণি ও পেশার নারী সমাজের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও সহযোগিতা ছিলো তুলনাহীন। বক্তারা আরও বলেন, আগে তো নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা দরকার। নারীকে নাগরিক হিসেবে সমাজকে গ্রহণ করা জরুরি আগে। নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা গেলেই সম-অধিকার প্রতিষ্ঠাসহ অন্যান্য অধিকার প্রতিষ্ঠা পাবে।’ এ সময় বক্তারা আরও বলেন, ‘পুরুষতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থায় নারীকে পুরুষ কর্তৃক নিয়ন্ত্রিত করা হচ্ছে এবং সেটা পরিবার থেকেই। নারীদের এখন সম অধিকার, ক্ষমতায়ন করার চেয়েও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি। নারীরা এখন ক্রমাগত নিজেদের অনিরাপদ বোধ করছে। নারীদের সমাজে প্রতিষ্ঠিত
হওয়ার জন্য উদ্যোগ ও ক্ষমতায়ন প্রয়োজন। নারীরা এখন সব কাজ করছে, কিন্তু আমাদের সমাজ ব্যবস্থায় একজন পুরুষ কৃষককে কৃষক বললেও নারীকে বলছে নারী শ্রমিক। নারীদের কাজের যথাযথ স্বীকৃতি প্রয়োজন, সেটা প্রতিটি সেক্টরেই।
বক্তারা বলেন, নারী দিবস শুধুমাত্র একটি দিবস উদযাপন নয়; এটি একটি সামাজিক আন্দোলন। নারীদের পিছিয়ে রাখার প্রবণতা থেকে সকলকে বেরিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়।





