মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপ-পরিচালকের বিরুদ্ধে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনে ডিসির কাছে অভিযোগ
একেএম বজলুর রহমান পঞ্চগড়
পঞ্চগড় জেলার মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপ-পরিচালকের বিরুদ্ধে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগে তারই কার্যালয়ে ‘প্রশিক্ষক’ হিসেবে কর্মরত লুনা বেগম জেলা প্রশাসক (ডিসি) এর নিকট অভিযোগ দেন।
৮ মার্চ রবিবার এ অভিযোগ দাখিল করেছেন লুনা বেগম।
অভিযোগে জানা যায়, ৮ মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবস’ উদযাপন করার জন্য জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ১শ জন প্রশিক্ষণার্থী ও আমাদের কার্যালয়ের অন্যান্য কর্মচারীদের নিয়ে আমরা উপস্থিত হন লুনা বেগম। সেখানে ১১:১৫ মিনিটে মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর, পঞ্চগড় এর উপ-পরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) এ.কে.এম ওয়াহিদুজ্জামান নির্দেশ প্রদানের নামে হঠাৎ আমার গায়ে হাত তোলেন এবং প্রকাশ্যে আমার চুলের মুঠি ধরে আমাকে চরমভাবে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করেন।
তিনি আরও জানান, আন্তর্জাতিক নারী দিবসের মতো একটি তাৎপর্যপূর্ণ দিনে এমন ন্যক্কার জনক ঘটনা আমাকে গভীর ভাবে অপমানিত, লাঞ্ছিত এবং মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করেছে।
পরবর্তীতে সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠান চলাকালে আমার বক্তব্যে উপস্থিত সকল সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তা, এনজিও প্রতিনিধি, সাংবাদিক এবং প্রশিক্ষণার্থীদের বিষয়টি মৌখিক ভাবে অবগত করি। এ ঘটনার পর থেকে আমি চরম নিরাপত্তাহীনতা ও মানসিক ট্রমার মধ্যে রয়েছি।
তিনি বলেন, সাংবাদিকদের বিষয়টি অবগত করার পর এ.কে.এম ওয়াহিদুজ্জামান সাংবাদিক, পুলিশ ও এনএসআই কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে রাগান্বিত হয়ে ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করেন এবং তার মনগড়া বক্তব্য প্রদান করেন।
লুনা বেগম আরও জানান, এ.কে.এম ওয়াহিদুজ্জামানের এই ধরনের অমানবিক আচরণ নতুন নয়। তিনি ইতোপূর্বেও কার্যালয়ের অন্যান্য স্টাফদের সাথে নিয়মিত অশালীন ও কুরুচিপূর্ণ ভাষায় গালিগালাজ করে আসছেন। তিনি প্রায়শই স্টাফদের লাথি মারার হুমকি দেন এবং ঘাড় ধাক্কা দিয়ে অফিস থেকে বের করে দেওয়ার মতো অপেশাদার ও আক্রমণাত্মক আচরণ করে থাকেন। তার এসব কর্মকাণ্ডের কারণে অফিসের কাজের পরিবেশ ও শৃঙ্খলা সম্পূর্ণ ভাবে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
সরকারি নারী কর্মচারী হিসেবে আমার সম্মান ও কর্মস্থলের নিরাপত্তা নিশ্চিতকল্পে এবং উল্লিখিত ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে দোষী ব্যক্তি এ.কে.এম ওয়াহিদুজ্জামান-এর বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ও বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান তিনি।





