বিভিন্ন অভিযোগে অভিযুক্ত ডা. ফয়সাল আহমেদ ফের সাতক্ষীরায়
মোঃ খলিলুর রহমান,সাতক্ষীরা ::
সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের সামনে অবস্থিত হার্ট ফাউন্ডেশনের পরিচালক ও সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের সাবেক আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. ফয়সাল আহমেদ সম্প্রতি সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেফ্রোলজি বিভাগে সহকারী অধ্যাপক হিসেবে যোগদান করেছেন।
গত ৭ মার্চ ২০২৬ তিনি সেখানে মেডিসিন ও নেফ্রোলজি বিশেষজ্ঞ হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
তবে তার এই যোগদানকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়েছে। অতীতে তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে দায়িত্ব অবহেলা, রোগী ও স্বজনদের সঙ্গে অসদাচরণসহ একাধিক অভিযোগ বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছিল।
গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের এপ্রিলে সাতক্ষীরা হার্ট ফাউন্ডেশনে চিকিৎসা সংক্রান্ত একটি ঘটনার পর এক রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে তার বিরুদ্ধে দায়িত্ব অবহেলার অভিযোগ ওঠে। একই সময় বিল পরিশোধ সংক্রান্ত বিরোধের জেরে রোগীর স্বজনদের আটকে রেখে মারধরের অভিযোগও সামনে আসে। তবে ডা. ফয়সাল আহমেদ এসব অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেন, রোগীর স্বজনরাই হাসপাতালের কর্মীদের ওপর চড়াও হয়েছিলেন।
পরবর্তীতে ২০২৪ সালের ২৪ এপ্রিল এক সাংবাদিকের ক্যামেরা ছিনিয়ে নেওয়া ও মারধরের অভিযোগও তার বিরুদ্ধে ওঠে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়। একই বছরের ১৪ নভেম্বর রোগীদের কান ধরে ওঠবস করানো, জুতাপেটা এবং সিরিয়াল ব্যবস্থাপনায় অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়।
এছাড়া ২০২৫ সালের ২ এপ্রিল রোগীর স্বজনদের সঙ্গে আর্থিক লেনদেন নিয়ে বিরোধের জেরে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ ওঠে। একই বছরের ৭ অক্টোবর কর্মস্থলে তিন মাসে প্রায় ৫০ দিন অনুপস্থিত থাকার অভিযোগও সামনে আসে।
এরই ধারাবাহিকতায় ৮ নভেম্বর ২০২৫ তাকে মেহেরপুর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে বদলি করা হয়। সেখানে যোগদানের পর তার পরিচালিত বেসরকারি প্রতিষ্ঠান সাতক্ষীরা হার্ট ফাউন্ডেশনের কার্যক্রমে কিছুটা ভাটা পড়ে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়।
পরবর্তীতে বিভিন্ন প্রক্রিয়া শেষে ২০২৬ সালের মার্চের শুরুতে তিনি সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেফ্রোলজি বিভাগে যোগদান করেন।
এদিকে অতীতের এসব অভিযোগকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকেই তার বিরুদ্ধে পূর্বের অভিযোগগুলোর তদন্ত ও বিচার দাবি করেছেন। আবার কেউ কেউ নতুন কর্মস্থলে তাকে সুষ্ঠুভাবে কাজ করার সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে ডা. ফয়সাল আহমেদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকেও বিভিন্ন সময় বলা হয়েছে, কিছু ঘটনায় পরিস্থিতির কারণে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়েছিল।




