খেলার মাঠে হাটের দখল, শৈশব হারাচ্ছে তারাগঞ্জের শিক্ষার্থীরা
জুয়েল ইসলাম, তারাগঞ্জ (রংপুর) প্রতিনিধি:
রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলার ঐতিহ্যবাহী তারাগঞ্জ ও/এ সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের খেলার মাঠ এখন আর শুধুই খেলাধুলার জন্য নয়—সপ্তাহে দুই দিন সেখানে বসছে হাট। প্রতি শুক্রবার ও সোমবার মাঠজুড়ে জমে উঠছে বাজার, যার ফলে খেলাধুলা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীসহ আশপাশের শিশু-কিশোররা।
একসময় সকাল-বিকাল খেলোয়াড়দের পদচারণায় মুখরিত থাকা মাঠটি এখন হারিয়েছে তার আগের জৌলুষ। বর্তমানে মাঠটি দেখে অনেকটাই গোচারণভূমির মতো মনে হয়। হাটবারে বাজার বসা ছাড়াও অন্যান্য দিনেও মাঠটি গবাদিপশুর বিচরণস্থল হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে, যা মাঠের পরিবেশকে আরও অনুপযোগী করে তুলছে।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পূর্বে আশপাশে ফাঁকা জমি থাকায় সেসব স্থানেই খেলাধুলা করতো শিশু-কিশোররা। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই জায়গাগুলো বিলুপ্ত হওয়ায় বিদ্যালয়ের মাঠই ছিল তাদের একমাত্র ভরসা। অথচ এখন সেই সরকারি মাঠটিও শিক্ষার্থীদের জন্য উন্মুক্ত না থেকে বাজারের দখলে চলে যাওয়ায় তৈরি হয়েছে উদ্বেগ।
মাঠটির বর্তমান অবস্থা অত্যন্ত বেহাল। খানাখন্দে ভরা মাঠে সামান্য বৃষ্টিতেই হাঁটুসমান পানি জমে থাকে। পানি নিষ্কাশনের কোনো কার্যকর ব্যবস্থা না থাকায় দীর্ঘদিন ধরে মাঠটি খেলাধুলার অনুপযোগী হয়ে আছে। প্রায় এক বছর আগে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে মাঠটির আংশিক সংস্কার করা হলেও তাতে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন হয়নি।
অন্যদিকে, মাঠটি আবাসিক এলাকার মধ্যে হওয়ায় কলেজপাড়া ও গোয়ালপাড়া এলাকার বাসিন্দাদের নিয়মিত চলাচলের পথ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। কিন্তু হাটবারে অতিরিক্ত লোকসমাগম ও যানবাহনের কারণে চলাচলে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে স্থানীয়দের।

বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী এবাদুল ইসলাম বলেন, “মাঠটি এখন তার আগের জৌলুষ হারিয়ে ফেলেছে। আমরা যখন পড়তাম, তখন এই মাঠেই নিয়মিত খেলাধুলা করতাম। এখন দেখি সেখানে বাজার বসে। খেলার মাঠে বাজার বসা মোটেও কাম্য নয়। শিক্ষার্থীরা তাহলে কোথায় খেলবে? দ্রুত বাজার উচ্ছেদ করে মাঠটি খেলাধুলার জন্য ফিরিয়ে দেওয়া উচিত।”
আরেক সাবেক শিক্ষার্থী ও কলেজপাড়া এলাকার বাসিন্দা তাজমুল ইসলাম তাজু বলেন, “আমি চাই মাঠটি আবার শিক্ষার্থীদের কোলাহলে মুখরিত হয়ে উঠুক। এজন্য দ্রুত বাজার উচ্ছেদ করা জরুরি।”
বর্তমান শিক্ষার্থীদের মধ্যেও বিরাজ করছে হতাশা। শিক্ষার্থী আসলাম হোসেন জানায়, “আমাদের মাঠে এখন বাজার বসে, তাই আমরা খেলতে পারি না। আমরা দ্রুত আমাদের মাঠ ফিরে পেতে চাই।”
এ বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো সুস্পষ্ট বক্তব্য পাওয়া যায়নি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোনাব্বর হোসেন ছুটিতে থাকায় দায়িত্বে থাকা অতিরিক্ত কমিশনার (ভূমি) আসমাউল হুসনা বলেন, “আমি অল্প সময়ের জন্য দায়িত্বে আছি, তাই এ বিষয়ে এখনই মন্তব্য করা সম্ভব নয়।”
স্থানীয়দের দাবি, শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের জন্য খেলার মাঠ অপরিহার্য। তাই দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়ে বিদ্যালয়ের মাঠ থেকে বাজার সরিয়ে পুনরায় খেলাধুলার পরিবেশ ফিরিয়ে আনার জোর দাবি জানিয়েছেন তারা।




