নগরীতে জলাবদ্ধতা প্রকল্পের ভাঙ্গন আতংকে ৪৪ পরিবার
ইসমাইল ইমন চট্টগ্রাম:
চট্টগ্রামের পাঁচলাইশ থানার নাসিরাবাদ হাউজিং সোসাইটিতে শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের অনুকূলে বরাদ্দপ্রাপ্ত জমিতে নির্মিত ‘সাফ জাফর ভিলা’ নামের ১২তলা ভবনে দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করছেন ৪৪টি পরিবার। ভবনটির পাশ দিয়ে ‘চট্টগ্রাম শহরের জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্প’ বাস্তবায়ন করছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ)।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ভবনের পেছনের অংশে বিএস শিট অনুযায়ী খালের প্রকৃত প্রস্থ পশ্চিমে ৫১ ফিট ও পূর্বে ৪৮ ফিট। কিন্তু সিডিএ সেটিকে ইচ্ছাকৃতভাবে ৫৮ ফুট দাবি করে পশ্চিম দিকে ভবনের ৮ ফিট অংশ ভেঙে ফেলে। একইভাবে পূর্ব দিকে ৬ ফিট অংশও ভেঙে ফেলা হয়।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) দুপুরে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের এস রহমান হলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন নাসিরাবাদ হাউজিং সোসাইটির হাউস-১৮, রোড-৪ এর ফ্ল্যাট ও প্লট ওনার্সের পক্ষে হুমায়ন কবির চৌধুরী। এ সময় উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা মোস্তফা কামাল, মোয়াজ্জেম হোসেন, কাদের নেওয়াজ, অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর আলম ও সাইফুল ইসলাম প্রমুখ।
তাদের দাবি, ভবনটি খালের মধ্যে পড়ে না বরং আইন মেনেই নির্মাণ করা হয়েছে। তবুও তথ্য বিকৃতি, ক্ষমতার অপব্যবহার ও জোর প্রয়োগ করে ৪৪টি পরিবারের একমাত্র আশ্রয়স্থল আংশিকভাবে ভেঙে ফেলা হচ্ছে। এতে পরিবারগুলো চরম আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন বলে জানান তারা।
সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, ভবনটি একটি শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সম্পত্তি হওয়ায় এ ভাঙচুরের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকেও অবমাননা করা হয়েছে। ভাঙচুরের ফলে ৪৪টি পরিবার চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে। নারী, শিশু, রোগী ও বয়স্করা মানবিক সংকটে রয়েছেন।
সংবাদ সম্মেলন থেকে পাঁচ দফা দাবি জানানো হয়। দাবিগুলো হলো, অবিলম্বে ভাঙচুর বন্ধ, হাইকোর্টের আদেশ বাস্তবায়ন, দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ, ক্ষতিগ্রস্ত ৪৪টি পরিবারের ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করা এবং প্রকল্পের অনিয়ম তদন্ত করা।





