শাহরাস্তিতে গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু: পরিবারের দাবি হত্যা, এলাকায় চাঞ্চল্য
এইচ.এ.বাবলু, শাহরাস্তি ।।
চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলায় এক গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নিহত গৃহবধূ আঁখি আলমগীর মীম (২৫) উপজেলার সুচিপাড়া উত্তর ইউনিয়নের পশ্চিম পাড়া রব ভূঁইয়া বাড়ির বাসিন্দা আব্দুর রহিমের স্ত্রী।
গত বুধবার (৮ এপ্রিল ২০২৬) মীম গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে বলে দাবি করা হলেও, ঘটনাটিকে ঘিরে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এ ঘটনার একটি ভিডিও ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, প্রায় পাঁচ বছর আগে পরিবারের অমতে মীম ও আব্দুর রহিম বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। এ কারণে মীমের বাবা আলমগীর হোসেন দীর্ঘদিন মেয়ের সঙ্গে সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন রাখেন। তবে মেয়ের মৃত্যুর সংবাদ পেয়ে তিনি ভেঙে পড়েন এবং এটিকে হত্যাকাণ্ড বলে দাবি করেন।
রবিবার (১২ এপ্রিল) সাংবাদিকদের কাছে আলমগীর হোসেন অভিযোগ করে বলেন, “আমার মেয়ে আত্মহত্যা করেনি, তাকে হত্যা করা হয়েছে।” তিনি আরও জানান, প্রায় এক মাস ধরে মীম তার স্বামীর সঙ্গে ঢাকায় বসবাস করছিলেন এবং স্বামী প্রায়ই তাকে শারীরিক নির্যাতন করতেন বলে তিনি জানতে পেরেছেন। এমনকি মেয়েকে হত্যার পর জানালার সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখার অভিযোগও করেন তিনি।
তিনি অভিযোগ করেন, মেয়ের মৃত্যুর খবর পরিবারকে না জানিয়ে লাশ এলাকায় এনে দাফন করা হয়। পরে পরিবারের সদস্যরা সেখানে গেলে তাদের ওপর হামলার চেষ্টা করা হয়।
নিহতের মা মনি বেগমও মেয়ের হত্যার বিচার দাবি করেছেন।
অন্যদিকে, মীমের শ্বশুরবাড়িতে তার স্বামী আব্দুর রহিমকে পাওয়া যায়নি। তার মা পারভিন বেগম জানান, পারিবারিক কিছু বিরোধ ছিল, বিশেষ করে এনজিও ঋণকে কেন্দ্র করে। তবে তিনি দাবি করেন, তার ছেলে মীমকে ভালোবাসতেন এবং আত্মহত্যার বিষয়টি সম্পর্কে তিনি নিশ্চিত নন।
জানা গেছে, ঘটনার পর মীমকে ঢাকার শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় মিরপুর মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে।
মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তার মৃতের স্বামী আব্দুর রহিম জানান মীম বাড়িতে থাকা অবস্থায় বিভিন্ন এনজিও থেকে ধোন নিয়ে তার বাবাকে দেয়। আর এই জন্য এনজিওর টাকা নিয়ে বাবার সাথে ঝগড়া করে ঘটনার আগেরদিন ঘুমের ওষুধ খায়। আর ঘটনার দিন আবার ঘুমের ওষুধ খায় এবং আমি সিসি ক্যামেরায় দেখতে পায় সে আত্মহত্যা করে। আমি তাৎক্ষণিক লোকজন নিয়ে লাশ উদ্ধার করে সোরোওয়ারদী হাসপাতালে নিয়ে যাই ও পরবর্তীতে থানায় জিডি করি।
পুলিশ জানায়, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।
শাহরাস্তি মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মীর মাহবুবুর রহমান বলেন, “ঘটনাটি মিরপুর এলাকায় ঘটেছে। তবে নিহতের স্বজনরা আমাদের সহযোগিতা চেয়েছেন। আমরা মিরপুর থানার সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছি। প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি রহস্যজনক মনে হয়েছে।”
এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং সঠিক তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।





