পাইকগাছায় বর্ণাঢ্য আয়োজনে বাংলা নববর্ষ উদযাপন
এম জালাল উদ্দীন:
বর্ণাঢ্য আয়োজন ও উৎসবমুখর পরিবেশের মধ্য দিয়ে খুলনার পাইকগাছায় উদযাপিত হয়েছে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩। উপজেলা প্রশাসন ও বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা এসডিএফ-এর উদ্যোগে দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
পহেলা বৈশাখের সকালে এক প্রাণবন্ত ও বর্ণিল বৈশাখী শোভাযাত্রা উপজেলা সদরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। শোভাযাত্রায় গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী ঘোড়ার গাড়ি, পালকি ও নানান লোকজ উপকরণ স্থান পায়, যা উৎসবে ভিন্নমাত্রা যোগ করে। এতে উপজেলা প্রশাসন, এসডিএফ, পাইকগাছা সরকারি কলেজ, ফসিয়ার রহমান মহিলা কলেজ, সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, শহীদ গফুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সহ বিভিন্ন স্কুল ও সামাজিক সংগঠন অংশগ্রহণ করে।
শোভাযাত্রা শেষে উপজেলা পরিষদ চত্বরে বসে বৈশাখী মেলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। মেলায় এসডিএফ-এর ১০টি, উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের ২টি এবং মহিলা বিষয়ক দপ্তরের ২টিসহ মোট ১৪টি স্টল স্থান পায়। প্রতিটি স্টলে গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী ও নান্দনিক সামগ্রী প্রদর্শন করা হয়, যা দর্শনার্থীদের আকর্ষণ করে।
এছাড়া বিকেলে উপজেলা প্রশাসন ও পৌরসভা প্রশাসনের মধ্যে এক প্রীতি ভলিবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়, যা উপস্থিত দর্শকদের মধ্যে বাড়তি আনন্দ যোগ করে। অপরদিকে গদাইপুর ফুটবল মাঠে স্থানীয় আয়োজক কমিটির উদ্যোগে চৈত্র সংক্রান্তি ও বৈশাখী মেলার আয়োজন করা হয়।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার ওয়াসিউজ্জামান চৌধুরীর সভাপতিত্বে এবং এসডিএফ কর্মকর্তা জিএম জাকারিয়ার সঞ্চালনায় দিনব্যাপী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ ফজলে রাব্বী, ডাঃ ফারজানা ইয়াসমিন লিসা, পাইকগাছা সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর সমরেশ রায়, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ আহসানারা বিনতে আহমেদ, সিনিয়র সহকারী পরিচালক নাহিদুল ইসলাম, ওসি (অপারেশন) জুলফিকার আলি, পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা লালু সরদার, অধ্যক্ষ উৎপল কুমার বাইন, উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা সৈকত মল্লিক, কৃষিবিদ একরামুল হোসেন, প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ পার্থ প্রতিম রায়, পৌরসভা বিএনপির সভাপতি আসলাম পারভেজ, প্রেসক্লাব পাইকগাছা এর সাধারণ সম্পাদক এম জালাল উদ্দীন সহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতা, সাংবাদিক ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা।
দিনব্যাপী এ আয়োজনের মধ্য দিয়ে পাইকগাছা যেন ফিরে পেয়েছিল গ্রামবাংলার চিরচেনা ঐতিহ্য, প্রাণের উচ্ছ্বাস আর নববর্ষের নির্মল আনন্দ।





