সারাদেশ

তিল চাষে স্বাবলম্বী হচ্ছেন সদরপুরের কৃষকরা

শিমুল তালুকদার, সদরপুর (ফরিদপুর)
​কম সময়ে ও স্বল্প খরচে অধিক লাভজনক হওয়ায় তিল চাষের প্রতি দিন দিন আগ্রহী উঠছেন ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার প্রান্তিক চাষিরা। তিল চাষের বাম্পার ফলন ও ভালো দাম পাওয়ায় এ অঞ্চলের কৃষকদের মুখে এখন হাসির ঝিলিক। অনুকূল আবহাওয়া আর আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির ছোঁয়ায় সদরপুরে তিল চাষে রীতিমতো বিপ্লব ঘটে চলেছে।
​একসময় সদরপুর উপজেলায় অত্যন্ত স্বল্প পরিসরে বা কেবল নিজেদের প্রয়োজনেই তিলের চাষ করতেন স্থানীয় কৃষকরা। কিন্তু সময়ের ব্যবধানে এখন বাণিজ্যিকভাবে বাড়ছে তিলের আবাদ। বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে এখন শুধু তিল গাছের সবুজ সমারোহ।
​স্থানীয় কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, অন্যান্য রবি ফসল উৎপাদন করতে যে পরিমাণ খরচ এবং শ্রমের প্রয়োজন হয়, তিল চাষে তার অর্ধেক খরচ করলেই চলে।
স্থানীয় কৃষক সাহেদ আলী বেপারী বলেন, প্রতিবিঘা জমিতে তিল চাষ করতে জমি তৈরি, বিজ বপন, সার ও কীটনাশক দিয়ে মোট খরজ হয় ৫ থেকে ৬ হাজার টাকা। আবহাওয়া অনুকুলে থাকলে প্রতি বিঘায় তিল উৎপাদন হয় ৫ থেকে ৬ মন।
তাছাড়া তিল চাষে রোগবালাই ও পোকার আক্রমণ তুলনামূলক অনেক কম। মাত্র ৯০ থেকে ১০০ দিনের মধ্যে এই ফসল ঘরে তোলা যায়। অল্প সময়ে মাঠ থেকে ফসল তুলে বাজারে বিক্রি করা যায় বলে কৃষকদের ঘরে দ্রুত নগদ টাকা চলে আসে।
​উপজেলার কয়েকজন চাষি জানান:
“অন্য ফসলের চেয়ে তিলে খরচ অনেক কম কিন্তু লাভ দ্বিগুণ। ৯০ থেকে ১০০ দিনেই তিল কেটে ঘরে তোলা যায়। বাজারে তিলের চাহিদাও চমৎকার। তাই আমরা এখন অন্য ফসলের চেয়ে তিল চাষেই বেশি ঝুঁকছি।”
​কৃষি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সদরপুরের মাটি ও আবহাওয়া তিল চাষের জন্য বেশ উপযোগী। তিল কাটার পর কৃষকরা একই জমিতে সহজেই পরবর্তী ফসল বোনার প্রস্তুতি নিতে পারেন, যা তাদের ফসলের নিবিড়তা বাড়াতে সাহায্য করছে।
​কম খরচে অধিক লাভজনক হওয়ায় এবং সরকারি-বেসরকারি পর্যায় থেকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহযোগিতা পাওয়ায় সদরপুরের অধিকাংশ প্রান্তিক কৃষকই এখন তিল চাষে ভাগ্য বদলের স্বপ্ন দেখছেন।
স্থানীয় অনেক কৃষকরা জানান, স্থানীয় হাট বাজারে ব্যবসায়ী সিন্টিগেট থাকার ফলে ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন কৃষকরা।
তারা বলছেন, স্থানীয় হাট বাজারে সিন্টিগেটের কারণে আমাদের উৎপাদিত প্রতিটি কৃষি পন্য আমরা কম মূল্যে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছি। এক প্রকার জিম্মি হয়ে গেছি ব্যসসায়ী সিন্টিগেটের কাছে।
এই সিন্টিগেট থেকে মুক্তি পেয়ে উৎপাদিত ফসলের ন্যায্য মূল্য পেতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সু-দৃষ্টি দেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন উপজেলার কৃষকরা।
স্থানীয় কৃষি বিভাগের সঠিক তদারকি ও বাজারজাতকরণ ব্যবস্থা আরও সহজ হলে আগামীতে এ উপজেলায় তিলের উৎপাদন আরও কয়েক গুণ বাড়বে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may also like

সারাদেশ

মৌলভীবাজার জেলা ছাত্রলীগের প্রচার সম্পাদক হলেন সাব্বির আহমেদ সামাদ

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি: মৌলভীবাজার জেলা ছাত্রলীগের নতুন কমিটিতে প্রচার সম্পাদক পদে দায়িত্ব পেয়েছেন জেলার একনিষ্ঠ ও ত্যাগী ছাত্রনেতা সাব্বির আহমেদ সামাদ।
সারাদেশ

বদলে যাচ্ছে র‌্যাব: পরিবর্তন হচ্ছে নাম, লোগো ও পোশাক

নতুন রূপে আসছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)। এ বাহিনীর নাম, লোগো ও পোশাক পরিবর্তনের পরিকল্পনা করা হয়েছে। শুধু তা-ই নয়,