মহাসড়ক পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ: হাটহাজারীতে ভারী বর্ষনে জনজীবন বিপর্যস্ত
হাটহাজারী প্রতিনিধি:
চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে বিগত দুই দিনের ভারী বর্ষনে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়েছে। উপজেলার আওতাধীন বিভিন্ন স্হানে জলযট সৃষ্টি হয়েছে।
মঙ্গলবার(৭জুলাই) সকাল থেকে অক্সিজেন – হাটহাজারী মহাসড়কের বড়দীঘির পাড়, নন্দীরহাট, আমান বাজার (আংশিক) পাহাড়ি ঢলের পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় ঝুঁকি নিয়ে গাড়ি চলাচল করছে। তবে মহাসড়ক পাহাড়ি ঢলের পানিতে তলিয়ে যাওয়া গাড়ি চলাচল কমে গেছে। জরুরি প্রয়োজনে লোকজন এই এলাকায় ভ্যান গাড়িতে করে সড়ক পারাপার করছে বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
তারা আরো জানান,মহাসড়ক ঢলের পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় চিকনদন্ডী ভূমি অফিস সংলগ্ন স্থানে স্থানীয় লোকজনকে হাতজাল দিয়ে মাছ শিকার করতে দেখা গেছে। পাহাড়তলী এলাকার খীল্লা পাড়া এলাকায় অনেক বসত ঘরে পাহাড়ি ঢলের পানি ঢুকে গেছে।
শিকারপুর ইউনিয়নের সাবেক প্যানেল চেয়ারম্যান এম লোকমান হাকিম বলেন কয় দিনের বর্ষনে শিকারপুর, বুড়িশ্চর এলাকার জনচলাচলের রাস্তাঘাট ও সড়ক পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এই দুই ইউনিয়নের প্রায় পনেনটি পুকুরের মাছ ঢলের পানিতে ভেসে গেছে।
১২নং চিকনদন্ডী ইউনিয়নের সাবেক ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ডাঃ আশোক কুমার দেব জানান, বড়দীঘিরপাড় এলাকায় হাটহাজারী মহাসড়ক ঢলের পানি তলিয়ে যাওয়ায় গাড়ি চলাচল করছে ঝুঁকি পূর্ণ ভাবে। চলমান এইচ এস সি পরীক্ষার্থীদের মহাসড়ক পাড়ি দিতে হয়েছে ঝুঁকি নিয়ে। প্রবল বর্ষনের কারনে বিভিন্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে চলমান অর্ধ বার্ষিক পরীক্ষার আজকে বুধবারের পরীক্ষা বন্ধ ঘোষণা করেছে । উপজেলার আওতাধীন সোনাই মনাই, বিপুলা, কুমারী খাল বদরখালী খাল, খন্দকিয়া খাল, পৌরসভার মরা ছরা, আলাওল খাল, ভানজইন খাল, মুন্দরীছরা প্রভৃতি খাল ও ছরা দিয়ে বিপদ সীমার উপর দিয়ে পাহাড়ি ঢলের পানি বিপদ সীমার উপর দিয়ে চলাচল করছে।
মির্জাপুর ইউপির সংরক্ষিত মহিলা সদস্য সাজেদা ইয়াসমিন জানান, তার বাড়ি সংলগ্ন বদরখালী খালের পানি বিপদ সীমার উপর দিয়ে চলাচল করছে। এতে তাঁর বসত ঘরে পানি ঢুকে পরার উপক্রম হয়েছে। তাঁর এলাকার ৩নং ওয়ার্ড মুহুরী পুকুর পাড় সংলগ্ন মাস্টার মৃনাল কান্তি সড়কের কয় দিনের প্রবল বর্ষনে গাইড ওয়ালসহ সড়ক বিধ্বস্ত হয়ে সংলগ্ন পুকুরে পড়ে গিয়ে জনচলাচল অযোগ্য হয়ে পড়েছে। পৌরসভার কামাল পাড়া, ফটিকা, মোহাম্মদপুর বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে।
উপজেলা প্রশাসন বিভিন্ন ইউনিয়নে আশ্রয় কেন্দ্র স্হাপন করেছে। ঝুঁকিতে থাকা লোকজনকে জানমালের নিরাপত্তার জন্য আশ্রয় কেন্দ্রে চলে যাওয়ার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।





