সান্তাহারে ভেজাল স্যালাইন তৈরির অপরাধে মেজরের ৬ মাসের কারাদণ্ড
আবু বকর সিদ্দিক বক্করঃ আদমদীঘি (বগুড়া) প্রতিনিধ
বগুড়া জেলার আদমদীঘি উপজেলার সান্তাহার পৌর শহরের মজিবর রহমান সুপার মার্কেটের (উপহার টাওয়ার) নিচ তলায় কয়েকটি দোকানে স্যোসাল মার্কেটিং কোম্পানির (এস এস সি) মোড়কে ভেজাল খাবার স্যালাইন বিক্রয়ের অভিযোগে মেজর নামের এক ব্যক্তিকে ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
কারাদণ্ড প্রাপ্ত হামিদুল ইসলাম মেজর (৪৫) সান্তাহার পৌর শহরের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের পাথর কুটা গ্রামের মৃত ময়েজ উদ্দিন প্রামাণিকের ছেলে। তবে বর্তমানে মেজর তার পরিবার নিয়ে শহরের সাহেব পাড়া মহল্লার রেল কোয়ার্টারে বসবাস করে।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, মেজর তার সাহেব পাড়াস্থ মহল্লায় এবং পাথরকুটা গ্রামে তার নিজের বাড়িতে কারখানা স্থাপন করে দীর্ঘদিন ধরে অনুমোদন বিহীন ভেজাল হারপিক এবং খাবার স্যালাইন তৈরি করে আসছিলো। যেগুলো পণ্য দেশের বিভিন্ন সুনামধন্য কোম্পানির আকর্ষণীয় মোড়কে প্রস্তুত করা। (২৩ আগস্ট) রবিবার দুপুরে মেজর তার ভেজাল স্যালাইন সান্তাহার উপহার টাওয়ার এলাকার দোকান গুলোতে বিক্রি করতে যায়। স্যালাইনের মোড়ক দেখে স্থানীয় কয়েকজন ব্যাবসায়ীর সন্দেহ হলে তখন তারা মেজরকে আটক করে পুলিশে খবর দেয়। পুলিশ এসে ১১ কাটুন স্যালাইনসহ মেজরকে আটক করে সান্তাহার পুলিশ ফাঁড়িতে নিয়ে যায়। পরে রবিবার সন্ধ্যায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জনাব মাসুমা বেগমের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়।
এ সময় জিজ্ঞাসাবাদে মেজর তার নিজ বাড়ির কারখানায় ভেজাল পণ্য তৈরির কথা স্বীকার করে ভ্রাম্যমাণ আদালতের নিকট স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দি প্রদান করে। ভ্রাম্যমাণ আদালত তার কারখানায় অভিযান চালিয়ে দেশের বিভিন্ন সুনামধন্য কোম্পানির নকল মোড়ক, ভেজাল স্যালাইন ও হারপিক জব্দ করে। পরে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনে ভ্রাম্যমাণ আদালত তাকে ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন। হামিদুল ইসলাম মেজর এর আগেও একই ধরণের ভেজাল পণ্য তৈরি করে বাজারজাত করার অপরাধে অভিযুক্ত হয়ে সাজা প্রাপ্ত হয়েছিলো। এবার তার কারখানা সিলগালা করে দেওয়া হয়েছে। একই দিন রাত ৯ টার সময় ভ্রাম্যমাণ আদালতের উপস্থিততে জব্দকৃত মালামাল ধ্বংস করে দেওয়া হয়। অভিযানে বগুড়া জেলার ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধায়ক জেসমিন আক্তারসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।





