চাঁদা না পেয়ে গুজব ছড়িয়ে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বসতবাড়িতে হামলা-লুটপাট, মূল হোতা গ্রেপ্তার
জয়পুরহাট জেলা প্রতিনিধিঃ
জয়পুরহাটের আক্কেলপুরে চাঁদা দাবি করে না পাওয়ায় এক ব্যবসায়ীর ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ১৮ জনকে আসামি করে থানায় ২৩ আগস্ট মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা দয়ের পর বিকেলে মামলার প্রধান আসামি রাজুকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। অন্যান্য আসামিদের গ্রেফতারের জোর তৎপরতা চলছে জানিয়েছেন পুলিশ।
গত শনিবার দুপুরে আক্কেলপুর উপজেলার কৃষ্ণকোলা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। হামলাকারীরা দোকানের মালামাল ও বাড়ি থেকে নগদ টাকা লুট চারটি ট্র্যাক্টর, শ্যালো মেশিনসহ বিভিন্ন যন্ত্রাংশ ভাঙচুর করে নিয়ে গেছে বলে অভিযোগ করেছেন ওই ব্যবসায়ী।
এ ঘটনায় রোববার আক্কেলপুর থানায় মামলা করেছেন ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী আল আমিন ও আজাদের বাবা কাশেম আলী।
মামলার এজাহারে নগদ ৭ লাখ টাকা লুট ও ছয় লাখ ৯০ হাজার টাকা মালামাল নষ্ট করার কথা বলা হয়েছে।
সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে, আক্কেলপুর উপজেলার বুড়াপুকুর- বিষ্ণপুর গ্রামের সাগর হোসেন কয়েক মাস আগে ৩ লাখ ১৫ হাজার টাকায় একটি ইজিবাইক কিনেছিলেন। গত ৯ আগস্ট রাতে তাঁর বাড়ির তালা কেটে ইজিবাইকটি চুরি হয়। ইজিবাইক টি এখনো উদ্ধার হয়নি।
গত শুক্রবার রাতে বুড়াপুকুর এলাকায় কয়েকজন লোক চারজনকে সন্দেহজনকভাবে ঘোরাঘুরি করতে দেখেন। পরে তাঁদের ধাওয়া করে তিনজনকে আটক করা হয়। একজন পালিয়ে যান। এসময় চাঁরদীঘি গ্রামের রাজু সেখানে গিয়ে আটক তিনজনকে রাতে মারধর করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরদিন শনিবার বুড়াপুকুর গ্রামের মসজিদের পাশে একটি ফাঁকা জায়গায় প্রকাশ্যে সালিস বসায় রাজু। এতে আটক তিন সন্দেহভাজন সহ প্রায় শতাধিক মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
এরপর রাজুর নেতৃত্বে আটক তিন ব্যক্তিকে কৃষ্ণকোলা গ্রামের ভাই-ভাই ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপ ও মেশিনারিজের দোকানে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে বুড়াপুকুর-বিষ্ণপুর ও চাঁরদীঘি গ্রামে প্রায় তিন শতাধিক মানুষ জড়ো হন। একপর্যায়ে রাজু নেতৃত্বে লোকজন উত্তেজিত হয়ে দোকান ও পাশের বাড়িতে হামলা চালান বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ সময় ওয়ার্কশপে ভাঙচুর লুটপাট ও পিছনেই তাদের বাড়িতে হামলা এবং লুটপাটের ঘটনাও ঘটে।
পরে থানায় খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ঐ আটক তিন চোর সন্দেহভাজনকে থানায় নিয়ে যায়। তাঁদের ১৫১ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়। পরে ওই দিনই তাঁরা জামিনে মুক্তি পান।
ভুক্তভোগী ও মামলার বাদী ব্যবসায়ী কাসেম আলীর ছেলে আল আমিন বলেন, প্রায় এক যুগ আগে তিনি ও তাঁর ভাই আজাদ গ্রামে ওয়ার্কশপের ব্যবসা শুরু করেন। তাঁরা সুনামের সঙ্গে ব্যবসা করে আসছেন। কয়েক আগে তিলেকপুর ইউনিয়নের চাঁরদীঘি গ্রামের রাজু তাঁর লোকজন নিয়ে পিকনিকে যাওয়ার কথা বলে তাঁদের কাছে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা চান। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে রাজু তাঁকে দেখে নেওয়ার হুমকি দেন বলে অভিযোগ করেন আল আমিন।
ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী মোঃ আজাদ বলেন, চোরাই ইজিবাইকের কেনার অভিযোগ তুলে ও গুজব ছড়িয়া আমাদের দোকান ও বাড়িতে হামলা চালানো হয়। ভাঙচুরের পাশাপাশি বাড়ি থেকে নগদ প্রায় ১০ লাখ টাকা, স্বর্ণালংকার এবং দোকানের যন্ত্রাংশ মালামাল সহ প্রায় ১৪ লাখ টাকার মালামাল লুট করা হয়েছে। এ ঘটনায় আমি ও আমরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। তারা যেকোনো সময় আমার ও আমার পরিবারে ক্ষতি করতে পারে।
তিনি আরো বলেন দীর্ঘদিন থেকে বৈধভাবে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছি, কয়েকদিন আগে রাজু ও তার দলবল আমার কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা চায়। আমি দিতে অস্বীকৃতি জানালে রাজু সহ তার দলবল এ হামলা ও লুটপাটের ঘটনা ঘটায়। আমি আর সুষ্ঠু বিচার চাই।
আক্কেলপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শাহীন রেজা রবিবার সন্ধ্যায় বলেন, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। চোরাই ইজিবাইকের মালামাল ক্রয়-বিক্রয়ের অভিযোগ মিথ্যা গুজব ছরিয়ে প্রধান আসামি রাজু সহ রাজু ও তার লোকজন তাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা ও বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর করেছে। এ ঘটনায় ২৩ আগস্ট বিকেলে ১৮ জনের নামে থানায় মামলা হয়েছে। এর মধ্যে প্রধান আসামি রাজুকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং সোমবার তাকে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করা হবে। এ মামলার অন্যান্য আসামীদের গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে।




