একমাত্র উপার্জনক্ষম মানুষটিকে হারিয়ে চট্টগ্রামে নিঃস্ব একটি পরিবার
চট্টগ্রাম প্রতিনিধি:
আয় নেই, আছে ব্যয়। হিসাব করে চলতে গিয়েও খেতে হচ্ছে হোঁচট। সরকারের সহযোগিতা পেলে ঘুরে দাঁড়াতে পারে নিঃস্ব পরিবারটি।
একটি দূর্ঘটনা, সারাজীবনের কান্না। এ কথাটাই যেন বাস্তব হয়ে ধরা দিল সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত মোঃ আলমগীরের পরিবারে। নিহত মোঃ আলমগীর চলতি বছরের সেপ্টেম্বর ১০ তারিখে চট্টগ্রাম নগরীর সল্ট গোলা রেল ক্রসিং এলাকায় মোটরসাইকেলে আরোহী থাকা অবস্থায় কাভার্ডভ্যান চাপায় আহত হয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর ভর্তি করার আগেই মারা যান। জানা গেছে, মৃত্যুকালে তিনি এক স্ত্রী ও দুই ছেলে মেয়ে রেখে গেছেন। তাঁর স্ত্রী ইয়াসমিন আক্তার (৪০) একজন গৃহিণী, একমাত্র ছেলে মেহেদী হাসান ফাহিম (২০) এইচএসসি পাশ করে দারিদ্র্যতার কারণে আর লেখাপড়ার গন্ডি পেরুতে পারে নি। এখন খুঁজে বেড়াচ্ছে পরিবারের ঘানি ধরার একটি চাকুরী। আর একমাত্র মেয়ে ইসরাত জাহান মাইসা (১৭) একটি বেসরকারি কলেজে একাদশে পড়ছে।
সংসারের একমাত্র উপার্জনক্ষম মানুষ ছিলেন সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত আলমগীর। বিগত করোনা কালীন সময়ে সব ধরনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বিলীন হয় তাঁর। ছোটখাটো মাংস স্লাপাইয়ের ব্যবসাও করতেন, সেটাতেও একসময় লস দিতে দিতে ছেড়ে দিতে হয়। পরে এক সময় সংসারের ঘানি টানতে গিয়ে অবশেষে নিজের মোটরসাইকেল দিয়ে পাঠাও আর উবারে ভাড়া মারতেন। আর যা আয় হতো তা দিয়েই তাদের সংসার জীবন চলতো। আল্লাহ তাআলা তাও কেড়ে নিয়ে গেলেন। এভাবেই কাঁদতে কাঁদতে নিজের কষ্টের কথাগুলো বলছিলেন নি:স্ব হয়ে পড়া নিহতের স্ত্রী ইয়াসমিন আক্তার। তিনি চোখের পানি মুছতে মুছতে বলছিলেন, ছেলেটার একটা চাকুরী হলেও না হয়, সংসারটা চলতো। স্বামী মারা যাওয়ার পর কোন সহযোগিতায় পেলেন না আত্মীয় স্বজন বা প্রতিবেশীদের কাছ থেকেও।
চট্টগ্রাম নগরীর দেওয়ান হাট আকসারা বাদ মেম গলির এলাকার সেকান্দার আলীর বাড়ীর স্থায়ী বাসিন্দা মরহুম সেকান্দার আলী সন্তান নিহত আলমগীর স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে মনছুরাবাদ একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন। এখন সেই ভাড়া বাসার ভাড়া দিতেও হিমসিম খেতে হচ্ছে অসহায় পরিবারটির। ছেলের বেকার জীবন আর মেয়ের লেখাপড়া সাথে ভাড়া ঘরের ভাড়া দেওয়া তো দূর, এখন পরিবার দুই বেলা খাবারের ব্যবস্থা করতেও দ্বিধায় ভুগছেন!
সমাজের দানবীর, বৃত্তবানদের এবং সরকারের কাছে দয়া কিংবা করুণা নয়, পরিবারটি আর দশটা পরিবারের মতো করেই সমাজে চলতে চায়। কোন সহযোগিতা করার জন্য অনুরোধ নয়, ছেলের চাকুরী এবং সড়ক দুর্ঘটনায় সরকারী সহযোগিতা যেন নিহতের পরিবার পায় সেই প্রত্যাশা করেন অসহায় এই পরিবার।




