বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে কাজী নাজমুল হোসেন তাপসের শোক প্রকাশ
মাজহারুল ইসলাম বাদল।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের অন্যতম ব্যক্তিত্ব,বাংদেশের তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আপোষহীন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের উপদেষ্টা মন্ডলির সাবেক সদস্য মরহুম কাজী আনোয়ার সাহেবের সুযোগ্য সন্তান,বর্তমান ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার অর্থনীতি বিষয়ক সম্পাদক জনাব কাজী নাজমুল হোসেন তাপস।
৩০ ডিসেম্বর মঙ্গলবার তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক শোকবার্তার মাধ্যমে এই দুঃখজনক ঘটনায় সমবেদনা প্রকাশ করেন। বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে দেশজুড়ে রাজনৈতিক অঙ্গনসহ সাধারণ মানুষের মাঝে শোকের আবহ তৈরি হয়েছে। তাঁর মৃত্যুতে বাংলাদেশ একজন দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অভিভাবককে হারাল বলে মনে করছেন তিনি।
তিনি আরো বলেন,
আজ বাংলাদেশের রাজনীতির এক উজ্জ্বল অধ্যায় চিরতরে সমাপ্ত হয়ে গেল। আমাদের প্রিয় দেশনেত্রী, তিনবারের সফল প্রধানমন্ত্রী, গণতন্ত্রের মা দেশ নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া আর নেই। তাঁর এই বিদায়ে হৃদয়টা যেন ছিঁড়ে যাচ্ছে, চোখের জল থামছে না।
প্রিয় নেত্রী আপনি ছিলেন লাখো কর্মীর প্রেরণা, অগণিত মানুষের আশার আলো। স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে আপনার সাহস, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সংগ্রামে আপনার অটলতা—সবকিছু আমাদের চিরকাল অনুপ্রাণিত করবে। আপনি শুধু একজন নেত্রী ছিলেন না, ছিলেন একটা প্রতীক—স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব আর জাতীয়তাবাদের প্রতীক।
আপনার অবর্তমানে দেশটা যেন শূন্য হয়ে গেল। কিন্তু আমরা প্রতিজ্ঞা করছি, আপনার স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়ে তুলব। আপনার আদর্শকে বুকে ধারণ করে এগিয়ে যাব।
আল্লাহ আপনাকে জান্নাতুল ফিরদাউস নসিব করুন। আপনার পরিবারকে এই অপূরণীয় ক্ষতি সহ্য করার তৌফিক দিন।
বিদায়, দেশনেত্রী। আপনি চিরকাল আমাদের হৃদয়ে বেঁচে থাকবেন।
মঙ্গলবার ভোর ৬টার দিকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বেগম খালেদা জিয়া শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তিনি বাংলাদেশের ইতিহাসে তিনবার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও রাজনৈতিক আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তাঁর নেতৃত্ব, দৃঢ়তা ও আপসহীন অবস্থানের কারণে তিনি দেশনেত্রী হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন।
দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে বেগম খালেদা জিয়া বহু সংকট ও চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেছেন। তিনি শুধু একটি রাজনৈতিক দলের নেতা নন, বরং বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের এক প্রতীকী নাম হিসেবে বিবেচিত ছিলেন। তাঁর মৃত্যুতে রাজনৈতিক সহকর্মী, দলীয় নেতাকর্মী এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে গভীর শোক ও বেদনার সৃষ্টি হয়েছে।
জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে তিনি নানা জটিল শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন। কিডনি জটিলতা, হৃদরোগসহ বিভিন্ন শারীরিক জটিলতার পাশাপাশি সর্বশেষ নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে প্রায় এক মাস ধরে তিনি এভারকেয়ার হাসপাতালে নিবিড় চিকিৎসাধীন ছিলেন। চিকিৎসকদের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা সত্ত্বেও শেষ পর্যন্ত তাকে সুস্থ করা সম্ভব হয়নি।
বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ৫ নবীনগর সহ সারা বাংলাদেশের বিএনপির নেতাকর্মীরা শোকাহত। বিভিন্ন স্থানে শোকসভা ও দোয়ার আয়োজনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। তাঁর রাজনৈতিক অবদান ও স্মৃতি ভবিষ্যতেও দেশের মানুষ শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।




