তারাগঞ্জে ১১ দলীয় জোটের বিশাল জনসভা, নির্বাচনী রাজনীতিতে নতুন বার্তা
জুয়েল ইসলাম, তারাগঞ্জ (রংপুর) প্রতিনিধি :
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলায় ১১ দলীয় জোট সমর্থিত বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর বিশাল নির্বাচনী জনসভা স্থানীয় ও আঞ্চলিক রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। বিপুল জনসমাগম ও সংগঠিত উপস্থিতির মাধ্যমে এই জনসভা নির্বাচনী মাঠে জোটের শক্ত অবস্থানের স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছে।
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় তারাগঞ্জ মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এ জনসভায় হাজারো নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ লক্ষ্য করা যায়। জনসভা শুরুর অনেক আগেই সভাস্থল ও আশপাশের এলাকা মানুষের ঢলে জনসমুদ্রে পরিণত হয়।
বিভিন্ন ইউনিয়ন ও আশপাশের উপজেলা থেকে খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে নেতাকর্মীরা জনসভায় যোগ দেন। দলীয় প্রতীক, স্লোগান, ব্যানার ও ফেস্টুনে মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। দীর্ঘ সময় ধরে চলা মিছিল ও স্লোগানে স্পষ্ট হয়ে ওঠে নির্বাচনী মাঠে জামায়াতে ইসলামী ও ১১ দলীয় জোটের সাংগঠনিক প্রস্তুতি এবং জনভিত্তির শক্ত অবস্থান।
জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কমিটির নায়েবে আমির এবং রংপুর-২ (বদরগঞ্জ-তারাগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেন,
“দেশের মানুষ একটি সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন প্রত্যাশা করে। জনগণের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠা এবং ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্যেই ১১ দলীয় জোট ঐক্যবদ্ধভাবে নির্বাচনী মাঠে নেমেছে।”
তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে দেশের মানুষ দুর্নীতি, দুঃশাসন ও বৈষম্যের শিকার। এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে রাজনৈতিকভাবে সংগঠিত লড়াই আরও জোরদার করতে হবে। জনগণের শক্তিতেই রাষ্ট্র ও রাজনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন সম্ভব বলে তিনি মন্তব্য করেন।
জনসভায় বক্তব্য দেন ১১ দলীয় জোট ও জামায়াতে ইসলামীর স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ। তারা বলেন, বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তারাগঞ্জ-বদরগঞ্জ অঞ্চলে পরিবর্তনের স্পষ্ট বার্তা ছড়িয়ে পড়েছে। এই জনসভা প্রমাণ করেছে যে, ১১ দলীয় জোটের পক্ষে জনসমর্থন দিন দিন বিস্তৃত হচ্ছে এবং নির্বাচনের দিন সেই সমর্থন ব্যালটের মাধ্যমে প্রতিফলিত হবে।
বক্তারা আরও দাবি করেন, সাধারণ মানুষ এখন বিকল্প রাজনৈতিক শক্তির দিকে তাকিয়ে আছে। জনগণের প্রত্যাশা ও দাবির রাজনীতি প্রতিষ্ঠায় ১১ দলীয় জোট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তারাগঞ্জের এই জনসভা কেবল একটি নির্বাচনী আয়োজন নয়; বরং এটি রংপুর অঞ্চলে ১১ দলীয় জোটের সাংগঠনিক শক্তি, মাঠপর্যায়ের প্রস্তুতি এবং ভোটের অঙ্কে প্রভাব বিস্তারের সক্ষমতার একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করছে। বিশেষ করে রংপুর-২ আসনে নির্বাচনী সমীকরণে এই জনসভা তাৎপর্যপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে বলে তারা মনে করছেন।




