সংবাদ সম্মেলনে ১১ দলীয় জোটের নির্বাচন অনিয়মের অভিযোগ
ওয়াসিম সেখ, সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি:
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬ উপলক্ষে সিরাজগঞ্জ-২ (সদর ও কামারখন্দ) আসনে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছে ১১ দলীয় জোটের নির্বাচনী সমন্বয় কমিটি, সিরাজগঞ্জ।
রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়, গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আচরণবিধি লঙ্ঘনসহ বিভিন্ন অনিয়ম সংঘটিত হলেও অভিযোগ দেওয়ার পরও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
লিখিত বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়, জুলাই যোদ্ধা হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামিদের মামলা প্রত্যাহারের আশ্বাস দিয়ে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করা হয়েছে। এ বিষয়ে প্রশাসনকে সুনির্দিষ্ট তথ্য উপাত্ত দেওয়া হলেও কোনো আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এছাড়া প্রচারণা চলাকালে বিরোধী পক্ষের আচরণবিধি লঙ্ঘনের সুস্পষ্ট প্রমাণ দেওয়ার পরও প্রতিকার পাওয়া যায়নি বলে দাবি করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, ভোটার ও ভোটকর্মীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন, দাড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থীর প্রচারে বাধা প্রদান, একাধিক স্থানে নির্বাচনী অফিস ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। দাড়িপাল্লার সমর্থক নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে প্রশাসন ও বিভিন্ন সংস্থার মাধ্যমে মিথ্যা তথ্যের ভিত্তিতে অপপ্রচার চালানো হয়েছে বলেও অভিযোগ তোলা হয়।
ভোটের আগের দিন থেকে ফলাফল ঘোষণা পর্যন্ত বিভিন্ন অনিয়মের চিত্র তুলে ধরে নেতৃবৃন্দ জানান, নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হওয়ার পরও ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থীর প্রচারণা চলেছে। প্রভাব বিস্তারের লক্ষ্যে নানা ধরনের অনৈতিক কর্মকাণ্ড হয়েছে বলেও দাবি করা হয়। ভোটের আগের দিন দাড়িপাল্লা মার্কার পোলিং এজেন্টদের বাড়িতে গিয়ে হুমকি দেওয়া ও এলাকা ছাড়া করার অভিযোগও উত্থাপন করা হয়।
তারা অভিযোগ করেন, ভোটের দিন পোলিং এজেন্টদের ভোটকেন্দ্রে ঢুকতে বাধা দেওয়া হয় এবং অনেক কেন্দ্রে দাড়িপাল্লার এজেন্টদের বের করে দেওয়া হয়। বিভিন্ন কেন্দ্রে ভোটারদের ভয়ভীতি প্রদর্শন ও প্রভাব বিস্তারের অভিযোগও তোলা হয়। ভোট গণনার সময় অনিয়ম এবং ফলাফল প্রকাশে স্বচ্ছতার অভাব রয়েছে বলেও দাবি করেন তারা।
সংবাদ সম্মেলনে সংশ্লিষ্ট অনিয়মের সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়।





