বেনাপোলে “শোকাবহ ১৫ ফেব্রুয়ারি” নয় কোমলমতি শিক্ষার্থীরা সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়।
জাকির হোসেন, বেনাপোল (শার্শা) প্রতিনিধি:
বেনাপোল,১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৪(শনিবার):
দিনটি আজও বেনাপোলবাসীর হৃদয়ে গভীর বেদনার রেখা হয়ে আছে। মুজিবনগর থেকে শিক্ষা সফর শেষে বাড়ি ফেরার পথে চৌগাছার ঝাউতলা নামক স্থানে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারায় বেনাপোল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৯ জন শিক্ষার্থী। আহত হয় আরও অন্তত ৪৭ জন।
শিক্ষা সফরের আনন্দ মুহূর্তেই রূপ নেয় শোকে। সন্তানের অপেক্ষায় পথ চেয়ে থাকা নয়জন মায়ের কোল হয়ে যায় শূন্য। পুরো বেনাপোলজুড়ে নেমে আসে শোকের ছায়া। পরিবার-পরিজন, সহপাঠী, শিক্ষক ও এলাকাবাসীর আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে আকাশ-বাতাস।
দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই স্থানীয়রা ছুটে যান উদ্ধার কাজে। আহতদের দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়। কিন্তু নয়টি কোমল প্রাণ আর ফিরেনি। তাদের অকাল বিদায়ে স্তব্ধ হয়ে পড়ে সীমান্ত জনপদ বেনাপোল।
পরদিন বেনাপোল বলফিল্ড ময়দানে অনুষ্ঠিত হয় সর্বকালের বৃহত্তম জানাজা নামাজ। হাজারো মানুষের উপস্থিতিতে কান্না আর প্রার্থনায় মুখর হয়ে ওঠে পুরো মাঠ। ছোট ছোট কফিনের সারি দেখে অশ্রুসিক্ত হয় উপস্থিত জনতা। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই শামিল হন শোক ও প্রার্থনায়।
এই দিনটি শুধু একটি দুর্ঘটনার স্মৃতি নয়; এটি বেনাপোলবাসীর হৃদয়ের গভীরে খোদাই হয়ে থাকা এক কালো অধ্যায়। প্রতি বছর ১৫ ফেব্রুয়ারি এলেই ফিরে আসে সেই শোকাবহ স্মৃতি—নয়টি নিষ্পাপ মুখ, নয়টি অসমাপ্ত স্বপ্ন, আর নয়জন মায়ের না ফেরার অপেক্ষা।
আমরা তোমাদের ভুলি নাই, আর কোনোদিন ভুলবো না।
বেনাপোল আজও সেই শহীদ শিক্ষার্থীদের স্মরণ করে গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায়।





