ভাঙা চালার সঙ্গে ভেঙেছে জীবন—মানসিক ভারসাম্যহীন তরুণীর মানবেতর দিনযাপন
জুয়েল ইসলাম, তারাগঞ্জ (রংপুর) প্রতিনিধিঃ
নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার চাঁদখানা ইউনিয়নর উত্তর চাঁদখানা বগুলাগাড়ী কামারপাড়া গ্রামে মানবেতর জীবনযাপন করছেন স্বামী-পরিত্যক্তা ও মানসিক ভারসাম্যহীন তরুণী রেখা রানী (২০)। একটি ঘরের অভাবে তার রাত কাটছে খোলা আকাশের নিচে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রেখা রানীর বাবা মৃত তরণি রায় এবং মা মৃত পূর্ণিমা রানী রায়। বাবা-মা দুজনই মারা যাওয়ায় ছোটবেলা থেকেই অভাব-অনটনের মধ্য দিয়ে তার জীবন কাটছে। পরিবারের মধ্যে এক ভাই ও এক বোন থাকলেও ভাই একটি কোম্পানিতে দৈনিক মজুরির কাজ করে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে কষ্টে জীবনযাপন করছেন। ফলে বোনের চিকিৎসা ও থাকার ব্যবস্থা করা তার পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না।
প্রতিবেশীরা জানান, বিয়ের আগে রেখা রানীর কোনো মানসিক সমস্যা ছিল না। পাশের এলাকা তারাগঞ্জ উপজেলার গোয়ালপাড়া এলাকায় বিয়ের পর তার একটি কন্যাসন্তান জন্ম নেয়। এরপর ধীরে ধীরে তিনি মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন। স্বামীর পরিবারের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি হলে বিভিন্ন নির্যাতনের অভিযোগে তাকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়। বর্তমানে তার কন্যাসন্তান বাবার কাছেই রয়েছে।
অশ্রুসিক্ত কণ্ঠে রেখা রানী বলেন,
“আমার মা-বাবা কেউ বেঁচে নেই। স্বামী বেঁচে থেকেও নেই। শ্বশুরবাড়ির লোকজন আমাকে নির্যাতন করে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছে। আমার থাকার ঘর নেই, খাবার নেই, গোসলের জায়গা নেই। আমার একটা চালা ছিল, সেটাও ভেঙে পড়ে গেছে। কেউ যদি আমাকে একটু সাহায্য করতো, তাহলে আমি তার জন্য ভগবানের কাছে প্রার্থনা করতাম।”
স্থানীয় প্রতিবেশী নমিতা রায় জানান,
“রেখা বিয়ের আগে খুব ভালো ছিল। কোনো সমস্যা ছিল না। কিন্তু এখন তাকে দেখে খুব খারাপ লাগে। অনেক সময় না খেয়ে থাকে। আমরা সামর্থ্য অনুযায়ী তাকে খাবার দিই।”
আরেক প্রতিবেশী মাহী রায় বলেন,
“রেখা রানীর থাকার মতো কোনো ঘর নেই। ভাঙা চালার নিচে বসে থাকত, এখন সেটিও পড়ে গেছে। সমাজের বিত্তবান মানুষ এগিয়ে এলে মেয়েটা বাঁচতে পারে।”
এ বিষয়ে কিশোরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তানজিমা আঞ্জুম সোহানিয়া বলেন,
“বিষয়টি আপনার মাধ্যমে জানতে পারলাম। খোঁজখবর নিয়ে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করা হবে।”
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, দ্রুত সরকারি সহায়তা ও সমাজের বিত্তবান মানুষের মানবিক উদ্যোগ না এলে অসহায় এই তরুণীর জীবন আরও ঝুঁকির মুখে পড়বে। তার জন্য জরুরি ভিত্তিতে একটি বাসস্থান, চিকিৎসা এবং খাদ্য সহায়তার ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।





