কালীগঞ্জ থানা পুলিশের টেনে হিঁচড়ে আসামি নেওয়ার ভিডিও ভাইরাল।
মোঃ হামিদুজ্জামান জলিল স্টাফ রিপোর্টার।
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ থানা এলাকায় আসামিকে টেনে হিঁচড়ে নিয়ে যাওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর জনমনে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিওতে দেখা যায়, এক ব্যক্তিকে চুল ধরে ও শরীর টেনে থানার ভেতর দিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন কয়েকজন পুলিশ সদস্য। এ দৃশ্য ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটে উপজেলার একটি রাজনৈতিক কার্যালয়ে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের জেরে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বিএনপির পার্টি অফিসে দুই গ্রুপের মধ্যে মারামারির খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বাধার মুখে পড়ে। পুলিশের দাবি, দায়িত্ব পালনকালে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে আটজনের নাম উল্লেখ করে মামলা দায়ের করেছে এবং চারজনের আটক করা হয়েছে।
তবে বিএনপির নেতাকর্মীরা পুলিশের এ দাবিকে অস্বীকার করেছেন। তাদের বক্তব্য, পুলিশের ওপর হামলার কোনো দৃশ্য বা প্রমাণ এখন পর্যন্ত প্রকাশ্যে আসেনি। বরং আটক ব্যক্তিকে অমানবিকভাবে টেনে হিঁচড়ে নিয়ে যাওয়ার ভিডিওই সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। তারা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশের প্রচলিত আইন ও মানবাধিকার নীতিমালা অনুযায়ী গ্রেফতারকৃত ব্যক্তির সঙ্গে মানবিক আচরণ করা বাধ্যতামূলক। অপ্রয়োজনীয় বলপ্রয়োগ বা অপমানজনক আচরণ আইনসম্মত নয়, যদি না পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তা একান্ত প্রয়োজন হয়। হেফাজতে থাকা ব্যক্তির নিরাপত্তা ও মর্যাদা রক্ষা করা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর দায়িত্বের মধ্যেই পড়ে।
সচেতন মহল বলছে, পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠলে তা শুধু একটি ঘটনার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না; বরং তা জনআস্থার ওপরও প্রভাব ফেলে। তাই এ ধরনের ঘটনায় স্বচ্ছ তদন্ত ও স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়া জরুরি।
এ বিষয়ে কালীগঞ্জ থানার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় এখনো চাঞ্চল্য বিরাজ করছে। স্থানীয়রা দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।





