রাতের আগুনে শেষ চার দোকান, লাখ টাকার ক্ষতি
জুয়েল ইসলাম, তারাগঞ্জ (রংপুর) প্রতিনিধিঃ
রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলা এলাকায় গভীর রাতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে চারটি দোকান পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। আকস্মিক এ ঘটনায় প্রায় সাড়ে ৭ লাখ টাকারও বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার (৬ মার্চ) দিবাগত রাত প্রায় তিনটার দিকে উপজেলার বিরাবাড়ি বাজার এলাকায় হঠাৎ করে একটি দোকান থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। রাতের গভীর নীরবতার মধ্যে প্রথমে আগুন ছোট পরিসরে দেখা গেলেও মুহূর্তের মধ্যেই তা ভয়াবহ আকার ধারণ করে। অল্প সময়ের মধ্যেই আগুন পাশের দোকানগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে এবং একের পর এক দোকান দাউদাউ করে জ্বলতে থাকে।
আগুন দেখতে পেয়ে আশপাশের এলাকার মানুষ দ্রুত বাজারে ছুটে আসেন। স্থানীয়রা বালতি ও পানির পাত্র দিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। অনেকেই দোকানের টিনের চালা খুলে আগুনের বিস্তার রোধের চেষ্টা করেন। তবে আগুনের তীব্রতা বেশি থাকায় তা দ্রুত নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়নি। প্রায় দীর্ঘ সময় চেষ্টার পর স্থানীয়দের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। কিন্তু ততক্ষণে চারটি দোকান সম্পূর্ণ পুড়ে যায়।
অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত দোকানগুলোর মধ্যে রয়েছে লালচানের কনফেকশনারি দোকান, মঞ্জু মিয়ার গালামালের দোকান, শাহজাহানের দোকান এবং বাবুলের দোকান। এসব দোকানে থাকা বিভিন্ন খাদ্যপণ্য, নিত্যপ্রয়োজনীয় মালামাল, ফ্রিজ, শোকেস, কাঠের তাক, আসবাবপত্রসহ প্রায় সবকিছু আগুনে পুড়ে গেছে। এছাড়া দোকানে থাকা নগদ টাকাও আগুনে পুড়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী লালচান বলেন, “রাতে আমরা সবাই বাড়িতে ছিলাম। হঠাৎ খবর পাই বাজারে আগুন লেগেছে। ছুটে এসে দেখি আমার দোকান আগুনে পুড়ে যাচ্ছে। কিছুই বের করার সুযোগ পাইনি। কয়েক বছরের কষ্টের সঞ্চয় মুহূর্তেই শেষ হয়ে গেল।”
আরেক ব্যবসায়ী মঞ্জু মিয়া বলেন, “আমার দোকানে অনেক মালামাল ছিল। আগুনের খবর শুনে এসে দেখি আগুন চারদিকে ছড়িয়ে গেছে। কাছে যাওয়ারও উপায় ছিল না। চোখের সামনে সবকিছু পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।”
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বাজার এলাকায় আগুন নেভানোর কোনো স্থায়ী ব্যবস্থা নেই। ফলে আগুন লাগলে তা দ্রুত নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়ে। তারা বাজারে অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্র স্থাপন এবং বৈদ্যুতিক লাইনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
তবে কী কারণে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে তা এখনো নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। অনেকের ধারণা, বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে। তবে বিষয়টি নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তদন্ত করবে বলে জানা গেছে।
ঘটনার পর স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও বাজার কমিটির সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তারা ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করেন এবং প্রশাসনের কাছে তাদের আর্থিক সহায়তার দাবি জানান।
এদিকে আকস্মিক এই অগ্নিকাণ্ডে পুরো বাজার এলাকায় আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। ব্যবসায়ী ও স্থানীয়রা ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে বাজারে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা জোরদার ও নিয়মিত নজরদারির দাবি জানিয়েছেন।





