মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের প্রভাব: সদরপুরে ডিজেল সংকটে ব্যহত সেচ, বোরো ফলন নিয়ে দুশ্চিন্তায় কৃষক
সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার সদরপুর ও বাইশরশি (২২ রশি) এলাকায় মাত্র দুটি তেলের পাম্প রয়েছে। এর মধ্যে জাকের ফিলিং স্টেশনটিতে কোনো তেল মজুদ না থাকায় সেটি সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। অন্যদিকে, সদরপুর ফিলিং স্টেশনে সামান্য তেল থাকলেও সেখানে যানবাহন ও কৃষকদের উপচে পড়া ভিড়। লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাক্টর চালক মতি মিয়া জানান, “সেচ কাজের জন্য তেল নিতে লাইনে দাঁড়িয়ে আছি। ডিজেল না পেলে সেচ দেওয়া যাবে না। চার দিন আগে মাত্র ৩০০ টাকার তেল পেয়েছিলাম।”
কৃষকদের অভিযোগ, তাঁরা পাম্পে ৫ লিটারের ক্যান বা বোতল নিয়ে গেলে ডিজেল দেওয়া হচ্ছে না। আবার খুচরা দোকানে বাড়তি দাম দিয়েও মিলছে না কাঙ্ক্ষিত তেল।
স্থানীয় কৃষক তৈয়ব বেপারী জানান,
”২ বিঘা জমিতে ব্রি-২৯ ধানের আবাদ করেছি। ডিজেলের অভাবে ঈদের আগে থেকেই ঠিকমতো সেচ দিতে পারছি না। মাঝে হালকা বৃষ্টিতে কিছুটা উপকার হলেও এখন জমি আবার শুকিয়ে খটখটে। ঠিকমতো সেচ দিতে না পারলে ধানের থোড় বের হবে না, পোকা লাগারও ভয় আছে।”
একই সংকটের কথা জানালেন আরেক কৃষক জাফর শেখ। তিনি বলেন, “৩ বিঘা জমিতে ব্রি-৮৯ আবাদ করেছি। সময়মতো সেচ ও সার দিতে পারলে বিঘায় ৩০ থেকে ৩৫ মণ ফলন হতো। এখন যে অবস্থা, তাতে ফলন কমে বিঘায় ২০ থেকে ২৫ মণে নামতে পারে।”
উপজেলা কৃষি কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সদরপুর উপজেলায় প্রায় ১ হাজার ২০০টি সেচ পাম্প রয়েছে। এসব পাম্প সচল রাখতে প্রতিদিন গড়ে অন্তত ৩ হাজার লিটার ডিজেলের প্রয়োজন হয়। অথচ বর্তমান পরিস্থিতিতে পাম্পগুলোর তথ্য অনুযায়ী, আজ বুধবার (১ এপ্রিল) পর্যন্ত মোট ডিজেল মজুদ আছে মাত্র ১ হাজার ১৫৮ লিটার—যা দৈনিক চাহিদার অর্ধেকেরও কম।
এ বিষয়ে সদরপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নীটুল রায় জানান, “এখন বোরো ধানের থোড় আসার মোক্ষম সময়। এই মুহূর্তে সেচ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখতে না পারলে উৎপাদন মারাত্মকভাবে কমে যাবে। সার্বিক বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)-কে অবগত করা হয়েছে। আমরা দাবি জানিয়েছি, প্রতিদিন পাম্পে যে পরিমাণ ডিজেল আসবে, তার অন্তত ৩০ শতাংশ যেন কৃষকদের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়।”




