মুক্তচিন্তা, সাহস ও মানবিকতার এক অনন্য প্রতিচ্ছবি: অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম
আনিসুর রহমান, সাভার প্রতিনিধি:
নশ্বর পৃথিবীতে মানুষের জীবন ক্ষণস্থায়ী হলেও কর্ম ও আদর্শের মধ্য দিয়েই কেউ কেউ নিজেকে স্থায়ী করে তোলেন মানুষের হৃদয়ে। তেমনই এক আলোকবর্তিকা হলেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের খ্যাতিমান শিক্ষক অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম। শিক্ষা, গবেষণা, সামাজিক দায়বদ্ধতা এবং গণতান্ত্রিক চেতনায় অবিচল অবস্থানের মাধ্যমে তিনি ইতোমধ্যেই নিজেকে অনন্য উচ্চতায় প্রতিষ্ঠিত করেছেন।
দীর্ঘ শিক্ষকতা জীবনে তিনি কেবল শ্রেণিকক্ষেই সীমাবদ্ধ থাকেননি; বরং শিক্ষার্থীদের মুক্তচিন্তা, যুক্তিবাদী মনন এবং মানবিক মূল্যবোধে গড়ে তুলতে নিরলসভাবে কাজ করে গেছেন। ২০০২ সাল থেকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা শুরু করে তিনি আজও শিক্ষা ও গবেষণায় সক্রিয় ভূমিকা পালন করে চলেছেন।
শিক্ষাজীবনে অসাধারণ সাফল্যের স্বাক্ষর রেখে অধ্যাপক নজরুল ইসলাম জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গণিতে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান অর্জন করেন। পরবর্তীতে জার্মানি, রোমানিয়া ও পোল্যান্ডের স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করে অর্জন করেন এমএসসি ও পিএইচডি ডিগ্রি। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বৃত্তি ও গবেষণায় অংশগ্রহণের মাধ্যমে তিনি নিজেকে সমৃদ্ধ করেছেন এবং দেশের উচ্চশিক্ষা খাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছেন।
শিক্ষা বিস্তারের পাশাপাশি সমাজের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জন্য কাজ করাও তাঁর অন্যতম লক্ষ্য। টাঙ্গাইলে মেজর জেনারেল মাহমুদুল হাসান আদর্শ মহাবিদ্যালয় এবং সাভারের মির্জা গোলাম হাফিজ ডিগ্রি কলেজের কার্যক্রম গতিশীল করতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। তাঁর এই উদ্যোগ দরিদ্র শিক্ষার্থীদের জন্য উচ্চশিক্ষার দ্বার উন্মুক্ত করতে সহায়ক হচ্ছে।
অধ্যাপক নজরুল ইসলাম কেবল একজন শিক্ষক নন, তিনি একজন সচেতন নাগরিক এবং গণতন্ত্রকামী মানুষের কণ্ঠস্বর। বিভিন্ন সময় দেশের রাজনৈতিক সংকট ও দুঃসময়ে তিনি অন্যায়ের বিরুদ্ধে সরব থেকেছেন। বিশেষ করে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের দাবিতে তিনি রাজপথে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। শিক্ষার্থীদের ওপর দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে তিনি সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছেন, যা সাধারণ শিক্ষার্থীদের মাঝে অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে।
সহকর্মী ও শিক্ষার্থীদের মতে, তিনি আপসহীন, স্পষ্টভাষী এবং সত্যনিষ্ঠ একজন মানুষ। ক্ষমতা বা ব্যক্তিস্বার্থের মোহে তিনি কখনো আদর্শ থেকে বিচ্যুত হননি। বরং ন্যায় ও সত্যের পক্ষে দৃঢ় অবস্থান নিয়ে তিনি নিজেকে একজন নির্ভীক কণ্ঠ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।
তবে তাঁর এই দৃঢ় অবস্থানের কারণে বিভিন্ন সময় তাকে সমালোচনা ও ষড়যন্ত্রের মুখোমুখিও হতে হয়েছে। তবুও তিনি দমে যাননি; বরং সত্য ও ন্যায়ের পথে অবিচল থেকে নিজের লক্ষ্যে এগিয়ে যাচ্ছেন।
ব্যক্তিজীবনে সরল ও অনাড়ম্বর হলেও পেশাগত ক্ষেত্রে তিনি কঠোর, শৃঙ্খলাবদ্ধ এবং দায়িত্বশীল। শিক্ষার্থীদের কেবল পরীক্ষার জন্য প্রস্তুত না করে তাদের চিন্তা করার ক্ষমতা তৈরি করাকেই তিনি শিক্ষার মূল লক্ষ্য হিসেবে মনে করেন।
অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ নজরুল ইসলামের গবেষণার ক্ষেত্র অপারেশনস রিসার্চ, সংখ্যা তত্ত্ব, ক্যালকুলাস ও পরিসংখ্যান। ইতোমধ্যে তিনি একাধিক পিএইচডি, এমফিল ও মাস্টার্স গবেষণার তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
বর্তমানে তিনি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট সদস্য, ফজিলাতুন্নেছা হলের প্রভোস্ট এবং বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
শিক্ষা, গবেষণা, সমাজসেবা এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধে অটল থেকে অধ্যাপক নজরুল ইসলাম আজ একটি প্রজন্মের কাছে অনুপ্রেরণার নাম। তাঁর কর্ম ও আদর্শ ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে পথ দেখাবে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।





