প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে বড়বাবু টাকা ছাড়া কাজ করেন না।
মোঃ হামিদুজ্জামান জলিল স্টাফ রিপোর্টার।
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের উচ্চমান সহকারী কাম হিসাবরক্ষক বশির আহমেদের কাছে প্রয়োজনীয় কাজের ফাইল গেলেই তাকে খুশি করতে হয় । বড় বাবুকে নগদ নারায়নে খুশি করতে না পারলে শিক্ষক কর্মচারীদের তিনি জিম্মি করে দিনের পর দিন হয়রানি করেন।উপজেলায় ১৫০ টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও কর্মচারীদের নানা প্রকার দাপ্তরিক কাজ ও অবসরকালীন পাওনাদির ফাইল আটকে রেখে মোটা অংকের টাকা দাবি করেন বলে অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া ভুক্তভোগী শিক্ষকদের অভিযোগ অসৎ এই অফিসার শিক্ষকদের অবসরকালীন পাওনাদির ফাইল আটকে দেন। লামগ্রাড,গ্রাচুইটি, প্রভিডেন্ট ফান্ড সব ক্ষেত্রে ভাগে ভাগে টাকা নেন। তার চাহিদা মত টাকা দিতে না পারলেই অফিসে দিনের পর দিন ঘুরতে হয়। কাজ করে দেওয়ার জন্য তিনি শিক্ষকদের নিকট “হাদিয়া” নামে টাকা দাবি করেন। বড়বাবু বশির আহমেদের এ ধরনের কর্মকাণ্ডের বিষয়গুলো প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রোকনুজ্জামান সব জেনেও নেননি কোনো ব্যবস্থা। বশির আহমেদ গত বছরের জুলাই মাসের ১৬ তারিখ কালীগঞ্জ উপজেলায় যোগদান করেন। এর আগে তিনি ঝিনাইদহ জেলার মহেশপুর উপজেলায় দায়িত্ব পালন করেছেন। বড় বাবুর ঘুষ দাবি ও গ্রহণের একাধিক তথ্য প্রমাণ ইতিমধ্যে প্রতিবেদকের হাতে এসে পৌঁছেছে।
শিক্ষকদের ফাইল আটকিয়ে হয়রানি, ঘুষ দাবি ও গ্রহনের ব্যাপারে বড়বাবু বশির আহমেদের নিকট জানতে চাইলে তিনি এর কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।
এ ব্যাপারে কালীগঞ্জ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রোকনুজ্জামান বলেন, আমিও শুনেছি তিনি শিক্ষকদের সাথে এই ধরনের কাজগুলো করছেন। আপনি নিউজ করে দেন ভাই।
বশির আহমেদের ঘুষ বাণিজ্যের ব্যাপারে ঝিনাইদহ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মোহাম্মদ আমজাদ হোসেন বলেন, শিক্ষকদের হয়রানি এবং ফাইল আটকিয়ে ঘুষ গ্রহণের কোনো সুযোগ নেই। এ ধরনের অপকর্মের সাথে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানান তিনি।
কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এ বিষয়ে বলেন, আমি প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের ওই কর্মকর্তাকে ডেকে কথা বলব এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।




