ফকিরহাটে মহিষ প্রজনন খামারের জমি অধিগ্রহণের ১৪ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ
বাগেরহাট প্রতিনিধিঃ
বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলার মহিষ প্রজনন খামারের জমি অধিগ্রহণের ক্ষতিপূরণের ১৪ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ফকিরহাট উপজেলার খুলনা-মোংলা মহাসড়কের সুকদাড়া এলাকায় মহিষ প্রজনন খামার স্থাপনের জন্য ২০২১ সালে সরকারি নিয়মে বেতাগা ইউনিয়নের মাসকাটা গ্রামের মৃত আমীর আলী শেখের ছেলে মোঃ আলফাজ উদ্দিন শেখের নিজ নামে ক্রয়কৃত জমি অধিগ্রহণ করা হয়। অধিগ্রহণকৃত ওই জমির ক্ষতিপূরণের টাকা আলফাজ উদ্দিন শেখের নামে বরাদ্দ দেওয়া হয়।
ভুক্তভোগী আলফাজ উদ্দিন শেখ অভিযোগে বলেন, ক্ষতিপূরণের টাকা উত্তোলনের জন্য তিনি বাগেরহাট জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে গেলে বেতাগা ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য অসিত দাশ তার নিজের জমি রয়েছে দাবি করে টাকা উত্তোলনের বিরুদ্ধে আপত্তি জানান। এতে তিনি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে টাকা তুলতে পারেননি। পরবর্তীতে আলফাজ উদ্দিন শেখ বাগেরহাট পুলিশ সুপার বরাবর অভিযোগ দায়ের করেন। বিষয়টি মীমাংসার জন্য ফকিরহাট থানায় পাঠানো হলে, অসিত দাশ প্রভাব খাটিয়ে ও ভয়ভীতি দেখিয়ে প্রতারণার মাধ্যমে তার কাছ থেকে নগদ ১৪ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ করেন তিনি। পরে বিষয়টি ঘিরে মোট ১৪ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ এনে বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী।
তিনি আরও বলেন, অভিযোগ দেওয়ার পর থেকে তাকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হচ্ছে।
অভিযুক্ত অসিত দাশের কাছে ১৪ লাখ টাকা নেওয়ার ব্যাপারে জানতে চাইলে, তিনি টাকা নেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন ৪ লাখ টাকা সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান স্বপন দাশকে ও ১০ লাখ টাকা তিনি নিজে নিয়েছেন বলে জানান। তবে তিনি দাবি করেন, এটি তার নিজ জমির ক্ষতিপূরণের টাকা।
তিনি আরও বলেন, জমির রেকর্ড সংশোধন সংক্রান্ত একটি মামলা আদালতে চলমান রয়েছে। আদালতের রায়ে যদি তিনি দোষী সাব্যস্ত হন, তাহলে তিনি সম্পূর্ণ টাকা ফেরত দেবেন।
এ বিষয়ে ফকিরহাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ সাইফুল ইসলাম জানান, আলফাজ উদ্দিন শেখ ১৪ লাখ টাকা আত্মসাতের বিষয়ে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন। বিষয়টি তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
উল্লেখ্য, ভুক্তভোগী আলফাজ উদ্দিন শেখ নিরুপায় হয়ে গত ৪ এপ্রিল ফকিরহাট প্রেসক্লাবে একটি সংবাদ সম্মেলন করেন। সংবাদ সম্মেলনের খবরটি বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশিত হয়।
ঘটনাটি এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে এবং দ্রুত তদন্ত পূর্বক ন্যায়বিচার নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।





