সান্তাহারে টোল আদায় করায় দুইজন গ্রেপ্তার
আবু বকর সিদ্দিক বক্করঃ আদমদীঘি (বগুড়া) প্রতিনিধি
বগুড়া জেলার আদমদীঘি উপজেলার সান্তাহার রেলগেইট এলাকায় পৌরসভার অনুমতি ছাড়া অটো ভ্যান, রিক্সাসহ বিভিন্ন যানবাহনের ভুয়া লাইসেন্স প্লেট দিয়ে মোটা অংকের টোল আদায় করার অভিযোগে আলম ও রবিউল নামের দুই জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃত দুইজন হলো অটো ভ্যান, রিক্সাসহ বিভিন্ন যানবাহনের টোল আদায় কারী রবিউল ইসলাম (২৫) উপজেলা ছাতিয়ান গ্রাম ইউনিয়নের পৌঁওতা গ্রামের বড়ো টিকড়ী এলাকার হাফিজুল ইসলামের ছেলে এবং টোল আদায়ের হুকুম দাতা সান্তাহার পৌরসভার কর্মচারী আলম হোসেন (৫৬) শহরের কলসা হলুদ ঘর এলাকার মৃত আসতুল সরদারের ছেলে এবং পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ড আ’লীগের সহ-সভাপতি। তাদের বিরুদ্ধে আদমদীঘি থানায় চাঁদাবাজি মামলা দায়ের করে শুক্রবার দুপুর আদালতে পাঠানো হয়েছে।
মামলা সূত্রে জানা গেছে, (১৭ সেপ্টেম্বর) বৃহস্পতিবার বিকেলে পার্শ্ববর্তী নওগাঁ জেলার শৈলগাছী থেকে ফারুক সরদার নিজস্ব অটো ভ্যানে করে স্বস্ত্রীক সান্তাহারে বড়ো মেয়ের বাড়িতে বেড়াতে যাওয়ার পথে রেলগেইট এলাকায় টোল আদায় কারী রবিউল তার ভ্যানটি আটক করে। তাকে বলে আপনার ভ্যান সান্তাহার পৌরসভার লাইসেন্স ভুক্ত নয় তাই আপনাকে লাইসেন্স বাবদ ৬৫০ টাকা দিতে হবে নয়তো ভ্যান ছেড়ে দেওয়া হবেনা। অনেক কাকুতি মিনতি করে ফারুক সরদার তার ভ্যানটি ছাড়াতে না পেরে জামাইকে ফোনে ডেকে নেয়। জামাই সান্তাহারের বিশিষ্ট ব্যাবসায়ী ও পৌর যুবদলের আহবায়ক কমিটির সদস্য বেলাল হোসেন সেখানে উপস্থিত হয়ে অল্প কিছু টাকা নিয়ে তার শ্বশুরের ভ্যানটি ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ করে। আদায় কারী রবিউল কোনো ক্রমেই রাজি না হলে তাদের মধ্যে বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। এক পর্যায়ে স্থানীয় লোকজন, শ্রমিক, শ্রমিক দল ও যুবদলের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত হয়ে উভয় পক্ষকে শান্ত করে ভ্যানটি ছেড়ে নেয়। তারপর টোল আদায় কারী রবিউলকে সন্ধ্যার পর তার সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, কাগজ পত্রসহ আদায়ের সাথে সংশ্লিষ্ট সকলকে সাথে নিয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্যের নিজস্ব অফিসে উপস্থিত হওয়ার জন্য বলে।
সন্ধ্যার পরে বগুড়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব আব্দুল মহিত তালুকদারের সান্তাহারস্থ নিজস্ব কার্যালয়ে তাঁর উপস্থিততে পুলিশ প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট সকলে উপস্থিত হয়ে লাইসেন্স প্লেট, লাইসেন্স বুকসহ বিভিন্ন কাগজ পত্র যাচাই-বাছাই ও স্বাক্ষী প্রমাণ অন্তে পৌর সভার অনুমতি ছাড়া ভুয়া প্লেটের মাধ্যমে লাইসেন্স দিয়ে মোটা অংকের টোল আদায় করার সত্যতা পাওয়ায় তাৎক্ষণিক ভাবে উল্লেখিত দুইজনকে আটক করে পুলিশ থানায় নিয়ে যায়।
এ বিষয়ে আদমদীঘি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সান্তাহার পৌরসভার প্রশাসক জনাব মাসুমা বেগম এবং পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী মনিরুজ্জামান বলেন, বিভিন্ন যানবাহনের নিকট থেকে টোল আদায়ের বিষয়ে পৌরসভার কোনো সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়নি। পৌরসভার নামে টোল আদায়ের সাথে পৌর কর্তৃপক্ষের কোনো সংশ্লিষ্টতা নাই।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে আদমদীঘি থানার অফিসার ইনচার্জ কামরুজ্জামান মিয়া বলেন, টোল আদায় কারী রবিউল ইসলাম এবং হুকুম দাতা সান্তাহার পৌরসভার কর্মচারী আলম হোসেনের বিরুদ্ধে থানায় চাঁদাবাজি মামলা দায়ের করে শুক্রবার দুপুর আদালতে পাঠানো হয়েছে।




