সারাদেশ

এসপিএল সিজন-৩-এর আয়-ব্যয় প্রকাশ অনিয়ম প্রমাণিত হলে চিরতরে সরে দাঁড়াব: সাদ্দাম হোসেন মিঠু

এইচ এ বাবলু।।
চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে শাহরাস্তি প্রিমিয়ার লিগ (এসপিএল) সিজন-৩-এর আয়-ব্যয়ের হিসাব প্রকাশ করেছেন তরুণ ক্রীড়া সংগঠক সাদ্দাম হোসেন মিঠু। একই সঙ্গে টুর্নামেন্টের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় কোনো অনিয়ম প্রমাণিত হলে সব ধরনের কার্যক্রম থেকে চিরতরে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।
সম্প্রতি নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে এসপিএল সিজন-৩-এর স্পন্সর, আয় ও ব্যয়ের খাতভিত্তিক হিসাব তুলে ধরেন মিঠু। তিনি জানান, শাহরাস্তির ক্রীড়াঙ্গনকে জাতীয় পর্যায়ে পরিচিত করা এবং যুবসমাজকে খেলাধুলার সঙ্গে সম্পৃক্ত রাখাই তাঁর অন্যতম লক্ষ্য।
এই বিষয়ে সাদ্দাম হোসেন মিঠু বলেন, “আমি একদিনের সৃষ্টি নই—অসংখ্য লড়াই, সংগ্রাম ও কঠিন পথ পেরিয়ে আজ এই অবস্থানে এসেছি। নিজের জীবনকে খেলাধুলায় উৎসর্গ করে দিয়েছি হেরে যাওয়ার জন্য নয়। দিন শেষে খেলাধুলাই আমার অক্সিজেন।”
তিনি আরও বলেন, শাহরাস্তির নামকে বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনে সর্বোচ্চ পর্যায়ে তুলে ধরার বড় স্বপ্ন রয়েছে তাঁর। তাঁর ভাষায়, “আমি একজন ক্রীড়া সংগঠক, একজন খেলাপাগল ছেলে। আমার পেছনে কোনো অপশক্তি নেই, কোনো গোষ্ঠী বা রাজনৈতিক দলের হয়ে আমি কাজ করি না। আমার শক্তি একটাই—খেলাধুলার প্রতি ভালোবাসা, সততা এবং শাহরাস্তির জন্য কিছু করার অদম্য ইচ্ছা।”
মিঠুর প্রকাশিত হিসাব অনুযায়ী, এসপিএল সিজন-৩-এ মাঠের মাটি ভরাট, গ্যালারি ও স্টেজ, মিস্ত্রির পারিশ্রমিক, ডেকোরেশন, ধারাভাষ্য, আম্পায়ার, কনসার্ট, ব্যানার, সম্প্রচার, খাবার, খেলোয়াড়দের আবাসন এবং পুরস্কারসহ বিভিন্ন খাতে ব্যয় হয়েছে।
তাঁর দেওয়া হিসাবের উল্লেখযোগ্য খাতের মধ্যে রয়েছে মাঠের মাটি ভরাটে ৩ লাখ ৮০ হাজার টাকা, গ্যালারি ও স্টেজের বাঁশ ও গাড়ি ভাড়ায় ৩ লাখ ১০ হাজার টাকা, ৮ জন মিস্ত্রির এক মাসের কাজ ও খাবারে ২ লাখ ২০ হাজার টাকা, জাতীয় পর্যায়ের ধারাভাষ্যকার বাবদ ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা এবং ৩১ ম্যাচের আধুনিক সম্প্রচারে ৬ লাখ ৫০ হাজার টাকা।
এ ছাড়া বিসিবির দুই আম্পায়ারের খরচ ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা, টুর্নামেন্টের ব্যানার বাবদ ১ লাখ ১০ হাজার টাকা, কনসার্টে ৯৫ হাজার টাকা, খেলোয়াড়দের আবাসনে ৯৫ হাজার টাকা এবং ম্যান অব দ্য ম্যাচ ও গেম চেঞ্জার পুরস্কারে ৯৩ হাজার টাকা ব্যয়ের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
মোট প্রাপ্তি ৩২ লাখ ৮০ হাজার টাকা
প্রকাশিত হিসাব অনুযায়ী, স্পন্সরদের কাছ থেকে ২৫ লাখ ৮০ হাজার টাকা এবং টুর্নামেন্টের এন্ট্রি ফি বাবদ ৭ লাখ টাকা পাওয়া গেছে। সব মিলিয়ে মোট প্রাপ্তি ৩২ লাখ ৮০ হাজার টাকা।
এ ছাড়া ৮ লাখ ৭ হাজার টাকা বকেয়া রয়েছে বলেও হিসাবটিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রধান স্পন্সরদের মধ্যে সানসিটি পল্লী ক্লিনিক, রিয়াদ, সৌদি আরব থেকে ৮ লাখ টাকা, মো. নূরআলম, সৌদি আরব থেকে ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা, মো. ফখরুল ইসলাম বিলাস থেকে ৩ লাখ টাকা, মো. এম হোসেন জুয়েল, দৈকামতা থেকে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা, মো. কামরুল হাসান বাচ্চু, সূচীপাড়া থেকে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং মো. কাউসার হোসেন, সৌদি আরব থেকে ১ লাখ টাকা পাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ছাড়া বিভিন্ন প্রবাসী দাতা, শুভাকাঙ্ক্ষী ও প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকেও বিভিন্ন অঙ্কের অনুদান পাওয়ার কথা জানানো হয়েছে।
আয় ব্যায় এর বিষয়ে সাদ্দাম হোসেন মিঠুর দাবি, প্রকাশিত হিসাবের বাইরে কারও কাছ থেকে কোনো অর্থ নেওয়া হয়নি। কেউ এর বাইরে অর্থ নেওয়ার প্রমাণ দিতে পারলে তিনি স্বেচ্ছায় সবকিছু থেকে চিরতরে সরে দাঁড়াবেন।
তিনি বলেন, টুর্নামেন্টের যেকোনো বিষয় সর্বোচ্চ পর্যায়ে তদন্ত করা যেতে পারে। এসপিএল ও একাডেমির কার্যক্রমে কোনো অনিয়ম প্রমাণিত হলে তিনি স্বেচ্ছায় সবকিছু থেকে বিদায় নেবেন।
খেলাধুলার মাধ্যমে শাহরাস্তির তরুণ সমাজকে আরও সম্পৃক্ত করা এবং শাহরাস্তির নামকে জাতীয় ক্রীড়াঙ্গনে তুলে ধরার লক্ষ্যে সকলের সহযোগিতা কামনা করেছেন এই ক্রীড়া সংগঠক।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may also like

সারাদেশ

মৌলভীবাজার জেলা ছাত্রলীগের প্রচার সম্পাদক হলেন সাব্বির আহমেদ সামাদ

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি: মৌলভীবাজার জেলা ছাত্রলীগের নতুন কমিটিতে প্রচার সম্পাদক পদে দায়িত্ব পেয়েছেন জেলার একনিষ্ঠ ও ত্যাগী ছাত্রনেতা সাব্বির আহমেদ সামাদ।
সারাদেশ

বদলে যাচ্ছে র‌্যাব: পরিবর্তন হচ্ছে নাম, লোগো ও পোশাক

নতুন রূপে আসছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)। এ বাহিনীর নাম, লোগো ও পোশাক পরিবর্তনের পরিকল্পনা করা হয়েছে। শুধু তা-ই নয়,