সান্তাহারে অটোরিকশা সংগঠনের নামে চাঁদাবাজির অভিযোগ
আবু বকর সিদ্দিক বক্করঃ আদমদীঘি (বগুড়া) প্রতিনিধি
বগুড়া জেলার আদমদীঘি উপজেলার সান্তাহারে অনুমোদন ছাড়াই ব্যাটারি চালিত অটোরিকশা মালিক সমিতির কার্যক্রম পরিচালনা এবং শ্রমিকদের কাছ থেকে নামে বেনামে অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগ রয়েছে, আদমদীঘি উপজেলা ব্যাটারি চালিত অটোরিকশা মালিক সমিতি নামের একটি সংগঠনের বিরুদ্ধে সদস্য ভর্তি বাবদ ৩০০ টাকা, সিরিয়াল কাটা ২০ টাকা, ছাড়াও মালিকের বই ফি ৫০০ ও চালক লাইসেন্স বই ফি ২০০ টাকা করে নেওয়া হচ্ছে। সংগঠনটি সান্তাহার কার্যালয় মুক্তিযোদ্ধা মার্কেট থেকে পরিচালিত। প্রতিনিয়ত সান্তাহার পৌর শহরের ঘোড়াঘাট, মালশন, দোগাছী ও স্টেশন রোড স্ট্যান্ডে দীর্ঘদিন ধরে প্রকাশ্যে এ অর্থ আদায় চলছে। প্রায় ৬০০ অটোরিকশা শ্রমিকের কাছ থেকে নিয়মিত অর্থ সংগ্রহ করা হলেও এসব টাকার আয়-ব্যয়ের কোনো হিসাব শ্রমিকদের জানানো হয় না বলে অভিযোগ রয়েছে। এ নিয়ে পুলিশ প্রশাসন থেকেও নেওয়া হয়না আইনগত কোনো পদক্ষেপ।
জানা গেছে, সারাদেশের আঞ্চলিক সড়ক ও মহাসড়কে পরিবহন খাতে কোনো ধরণের চাঁদাবাজি না করার বিষয়ে সরকারের কঠোর সতর্কতা রয়েছে। তবে সরকারি নির্দেশনা উপেক্ষা করে বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার সান্তাহার পৌর শহরের বিভিন্ন স্থানে সংগঠনের নামে ব্যাটারি চালিত অটোরিকশা থেকে নিয়মিত অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, আদমদীঘি উপজেলা ব্যাটারি চালিত অটোরিকশা মালিক সমিতির নামে সান্তাহার কার্যালয়ে সংগঠনটি অনুমোদন ছাড়াই কার্যক্রম পরিচালনা করছে। সংগঠনটির কার্যক্রমে সান্তাহার পৌরসভার, আদমদীঘির, অনুমোদন বিহীন ভুয়া লাইসেন্স বই ও নেমপ্লেট ব্যবহারের অভিযোগও রয়েছে। সান্তাহার পৌর শহরের ঘোড়াঘাট স্ট্যান্ড, মালশন স্ট্যান্ড, দোগাছী স্ট্যান্ড ও স্টেশন রোডে সংগঠনের নাম ব্যবহার করে প্রকাশ্যে অর্থ আদায় করা হচ্ছে। সংগঠনটির সদস্য হতে ৩০০ টাকা এবং সিরিয়ালে গাড়ি চালানোর জন্য প্রতিটি অটোরিকশা থেকে ২০ টাক ও মালিকের বই ফি ৫০০ ও চালক লাইসেন্স বই ফি ২০০ টাকা করে নেওয়া হয়। প্রায় ৬০০ সদস্য নিয়ে সংগঠনটি পরিচালিত হচ্ছে। সদস্য ভর্তি, অর্থ আদায়সহ সংগঠনের বিভিন্ন কার্যক্রম শুভ নামের এক অটোরিকশা মালিক সমিতির ক্যাশিয়ারের মাধ্যমে পরিচালনা করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। শুধু তাই নয় শ্রমিকদের কাছ থেকে নিয়মিত অর্থ নেওয়া হলেও বিভিন্ন উৎসব, ধর্মীয় অনুষ্ঠান কিংবা শ্রমিকদের কল্যাণে সংগঠনের পক্ষ থেকে তেমন কোনো আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয় না। এতে সংগঠনের কার্যক্রম ও আদায়কৃত অর্থের ব্যবহার নিয়ে জনমনে চলছে ব্যাপক সমালোচনা। বিষয়টি স্থানীয়ভাবে অনেকেরই জানা থাকলেও এখন পর্যন্ত পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দেখা যায়নি। ফলে অনুমোদনহীন সংগঠনের নামে অর্থ আদায়ের বিষয়টি নিয়ে প্রশ্নও উঠেছে। এ বিষয়ে প্রশাসনের যথাযথ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।
এ বিষয়ে অটোরিকশা মালিক সমিতির ক্যাশিয়ারের শুভ জানান, পৌরসভার লাইসেন্স পরিদর্শক আলমের অনুমতি নিয়ে কার্যক্রম চালানো হয়েছে বর্তমানে সেটি বন্ধ। এখনো সিরিয়াল ও ভর্তি নেওয়া ও রেজিষ্ট্রেশন থাকার বিষয়ে জিজ্ঞেসা করতেই তিনি প্রসঙ্গটি এড়িয়ে যান। লাইসেন্স পরিদর্শকের জায়গায় শুভ’র স্বাক্ষর করার বিষয়ে তিনি কোনো কথা বলেননি।
সান্তাহার পৌরসভার মুখপাত্র ও সহকারী প্রকৌশলী মনিরুজ্জামান তালুকদার জানান, পৌরসভার নাম ব্যবহার করে চাঁদা আদায়ের সুযোগ নেই৷ আমরা পৌরসভা থেকে কোন লাইসেন্স বা বই ইস্যু করেনি৷
বগুড়া জেলা পুলিশ সুপার মির্জা সায়েম মাহমুদ, পিপিএম বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখে আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।





