দুই হাত ভেঙে যাওয়া, যৌনাঙ্গে আঘাত করা, গর্ভের সন্তানকে হত্যা করার অপরাধের মামলাটি হলো এজারভুক্ত।
একেএম বজলুর রহমান, পঞ্চগড়
পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জের উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও চিলাহাটি ইউপি চেয়ারম্যান হারুন অর রশীদ ও তার লোকজনের বিরুদ্ধে দুই হাত ভেঙে দেয়া, যৌনাঙ্গে আঘাত করা, গর্ভের সন্তানকে হত্যা করার অপরাধে অবশেষে দায়ের করা মামলাটি ২৮ মার্চ নথিভুক্ত করলো দেবীগঞ্জ থানা।
২৫ মার্চ মামলার অভিযোগ দেয়ার পরও অদৃশ্য কারনে নথিভুক্ত হয়নি। মামলার বাদি, সংবাদকর্মী আর সচেতন মানুষের কারনে অবশেষে সেই মামলাটি নথিভুক্ত হয়।
চিলাহাটি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক হারুন অর রশীদের মেয়ের প্রেমের বিয়েকে কেন্দ্র করে মেয়ের শ্বশুরবাড়ির সদস্যদেরকে বাসায় ডেকে এনে বেধড়ক মারধর ও নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছিল উপজেলা বিএনপির নেতা ও ইউপি চেয়ারম্যান হারুন অর রশীদ ও তার লোকজনের বিরুদ্ধে। গত ২৫ মার্চ দেবীগঞ্জ উপজেলার চিলাহাটি ইউনিয়নের তিস্তাপাড়া এলাকায়।
তাদের পরিবারের সদস্যদের হামলার ঘটনায় গুরুতর আহত হন আব্দুস সাত্তার, তার স্ত্রী ফরিদা বেগম, ছেলে খোকন বাবু ও তার চার মাসের অন্তসত্ত্বা স্ত্রী রেহেনা খাতুন। পরে অন্তসত্ত্বা রেহেনার গর্ভে থাকা শিশুটি মারা যায়।
মঙ্গলবার (২৫ মার্চ) আব্দুস সাত্তার বাদী হয়ে হারুন অর রশিদকে প্রধান আসামী করে ৮ জনের নামে দেবীগঞ্জ থানায় এজাহার দায়ের করেছিলেন। মামলার অপর আসামীরা হলো মাহাবুল ইসলাম, কমল ডাক্তার, নুর হোসেন, নুর আলম, নুর ইসলাম, আইয়ুব আলী ও হাফিজুল ইসলাম। তবে দেবীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সোয়েল রানা বলেন, তাদের লিখিত অভিযোগটি এজাহারভুক্ত হয়েছে। তদন্তসহ আইনগত ব্যবস্থা চলমান রয়েছে।
উল্লেখ্য, আব্দুস সাত্তারের বড় ছেলে মোস্তাকিম ইসলাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হারুন অর রশিদের মেয়ে সিফাতে সাদিয়া সুহার সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। এক পার্যায়ে দুই পরিবারের অগোচরে ২০২১ সালে মোস্তাকিম ও সুহা বিয়ে করেন। বিষয়টি সম্প্রতি জানাজানি হয়। বিয়ের বিষয়টি মেয়ের পরিবার থেকে মেনে না নেওয়ায় প্রায় ২০ দিন আগে মোস্তাকিম ও সুহা বাড়ি ছেড়ে চলে যান। পরে মেয়ের বাবা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতায় তাদের মেয়েকে উদ্ধার করে বাসায় নিয়ে আসেন । এরপর গতকাল সোমবার (২৪ মার্চ) সুহা ও মোস্তাকিম বাড়িতে কিছু না জানিয়ে আবারো বাড়ি ছেলে চলে যান। বিষয়টি সুহার পরিবার জানতে পেরে গতকাল রাত ৯টায় চেয়ারম্যান হারুন অর রশীদের নির্দেশে তার লোকজন মোস্তাকিমের বাসায় গিয়ে তার বাবা-মায়ের কাছে মোস্তাকিমের অবস্থান জানতে চায়। কিন্তু তারা মোস্তাকিমের অবস্থান জানেন না বলে জানালে বাসায় থাকা বাবা-মা ও তার ভাবিকে জোর করে ডেকে আনা হয় চেয়ারম্যানের ভাই নূর হোসেনের বাসায়। এরপর মেয়ের সন্ধান চেয়ে তাদেরকে বেধড়ক মারধর শুরু করে চেয়ারম্যানের লোকজন। এতে মোস্তাকিমের মায়ের দুই হাত ভেঙ্গে যায় এবং একই সময়ে তার যৌনাঙ্গে একাধিকবার লাঠি দিয়ে আঘাত করা হয়। মোস্তাকিমের ছোট ভাইয়ের চার মাসের অন্তসত্ত্বা স্ত্রীকে পেটে আঘাত করা হয়।তার ছোট ভাই খোকনকে ভাউলাগঞ্জ হতে ঘটনাস্থলে ডেকে এনে বস্তাবন্দী করে তার পিঠ ও কোমরে বেধড়ক মারধর করা হয়। পরে খোকনের শ্বশুর পুলিশের হেল্প লাইন ৯৯৯ এ কল করেন এবং দেবীগঞ্জ থানাকে অবগত করে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ভুক্তভোগীদের উদ্ধার করে।





