আকাশই এখন ছাদ—মানবিক সহায়তা ছাড়া টিকে থাকা দুষ্কর বৃদ্ধ দম্পতির
জুয়েল ইসলাম, তারাগঞ্জ (রংপুর) প্রতিনিধি:
রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলায় কালবৈশাখী ঝড়ের তাণ্ডবে বসতঘরের ছাদ উড়ে গিয়ে চরম মানবেতর জীবনযাপন করছেন এক অসহায় বৃদ্ধ দম্পতি। খোলা আকাশের নিচে বৃষ্টিতে ভিজে দিন কাটছে তাদের। স্থানীয়দের সহায়তায় কোনোরকমে টিকে আছেন তারা, তবে এখনো মেলেনি সরকারি কোনো সহায়তা।
ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার ৫ নং সয়ার ইউনিয়নের দামোদরপুর এলাকার ডাঙ্গাপাড়া গ্রামে। গত সোমবার (২৭ এপ্রিল) রাত আনুমানিক ৯টার দিকে হঠাৎ শুরু হওয়া কালবৈশাখী ঝড়ে মো. আইয়ুব আলি (৬৫) ও তার স্ত্রী মোছা. আবেদা বেগমের (৫৯) একমাত্র বসতঘরের চালা সম্পূর্ণ উড়ে যায়। ঝড়ের পর সারারাত খোলা আকাশের নিচে বৃষ্টিতে ভিজেই কাটাতে হয় তাদের।
জানা যায়, আইয়ুব আলির কোনো জমিজমা নেই। মাত্র ২ শতক জায়গার ওপর নির্মিত একটি ছোট বসতঘরই ছিল তাদের একমাত্র আশ্রয়স্থল। সেই ঘরটিই এখন প্রায় বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
পরিবারটির দুর্দশা আরও বেড়ে যায় প্রায় তিন বছর আগে। আইয়ুব আলির বড় ছেলে আদম আলি ঢাকায় শ্রমিক হিসেবে কাজ করতে গিয়ে সেফটি ট্যাংকে নেমে দুর্ঘটনায় মারা যান। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তির মৃত্যুতে চরম অনিশ্চয়তায় পড়ে পরিবারটি। অন্যদিকে, দ্বিতীয় মেয়ে আলিমা খাতুনের বিয়ে হয়ে যাওয়ায় বর্তমানে সংসারে উপার্জনের মতো কেউ নেই।
স্থানীয় বাসিন্দা জাহেদুল ইসলাম বলেন, “আইয়ুব আলি ঠিকমতো চোখে দেখতে পান না। স্বামী-স্ত্রী দুজনেই বয়স্ক ও অসহায়। আমরা প্রতিবেশীরা যার যার সামর্থ্য অনুযায়ী চাল-ডাল দিয়ে সহায়তা করি। কেউ সাহায্য করলে তারা খেতে পারেন, না হলে না খেয়েই থাকতে হয়।”
তিনি আরও জানান, জাতীয় পরিচয়পত্রে বয়স কম দেখানো থাকায় আইয়ুব আলি এখনো বয়স্ক ভাতার আওতায় আসতে পারেননি। বিষয়টি একাধিকবার স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের জানানো হলেও এখনো কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
ভুক্তভোগী আইয়ুব আলি ও আবেদা বেগম জানান, ঝড়ের পর থেকে তারা খোলা আকাশের নিচেই দিন কাটাচ্ছেন। বৃষ্টিতে ভিজে তাদের কষ্ট আরও বেড়েছে। এখনো কোনো ধরনের সরকারি সহায়তা বা ত্রাণ পাননি বলে অভিযোগ করেন তারা।
এদিকে এলাকাবাসী দ্রুত প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে জরুরি ভিত্তিতে ঘর মেরামত, খাদ্য সহায়তা ও বয়স্ক ভাতার ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, যথাসময়ে সহায়তা না পেলে এই বৃদ্ধ দম্পতির জীবন আরও অনিশ্চিত হয়ে পড়বে।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত ব্যবস্থা নেবে, যাতে এই অসহায় দম্পতি মানবেতর জীবন থেকে কিছুটা হলেও স্বস্তি পেতে পারেন।




