কমিটি গঠন নিয়ে বিরোধ, সড়কে দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া
জুয়েল ইসলাম, তারাগঞ্জ (রংপুর) প্রতিনিধি:
রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলায় একটি মসজিদ পরিচালনা কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (৮ এপ্রিল) দুপুর থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত রংপুর-দিনাজপুর মহাসড়কের তারাগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড এলাকায় দফায় দফায় পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। এতে মহাসড়কে সাময়িকভাবে যান চলাচল ব্যাহত হয় এবং যাত্রীদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী, স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, উপজেলার নতুন চৌপথি জামে মসজিদের সভাপতি ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আতিয়ার রহমানের মৃত্যুর পর মসজিদ পরিচালনা কমিটি বিলুপ্ত হয়ে যায়। দীর্ঘদিন পর নতুন কমিটি গঠনের লক্ষ্যে বুধবার দুপুরে একটি আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।
সভায় মসজিদের জমিজমা ও আর্থিক বিষয় নিয়ে আলোচনা চলাকালে বিরোধের সূত্রপাত হয়। বিশেষ করে মসজিদের নামে থাকা প্রায় ১৬ বিঘা জমি বন্ধক দেওয়া এবং আরও ১৫ শতক জমি উদ্ধারের বিষয়টি নিয়ে মতবিরোধ তীব্র আকার ধারণ করে। এ সময় শ্রমিক দলের নেতা সোহেল রানা হঠাৎ উত্তেজিত হয়ে আলোচনার বাইরে গিয়ে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান শিপুকে মসজিদ কমিটির সভাপতি ঘোষণা করেন বলে অভিযোগ ওঠে।
এ সিদ্ধান্তে সভায় উপস্থিত অন্যদের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয় এবং তর্কবিতর্ক একপর্যায়ে হাতাহাতিতে রূপ নেয়। পরে তা সংঘর্ষে গড়ায়। এতে তারাগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি গোলাম কিবরিয়া ও তাঁর বড় ভাই গোলাম সরওয়ারের পক্ষের সঙ্গে মেহেদী হাসান শিপু ও সোহেল রানার সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ বেধে যায়।
সংঘর্ষ চলাকালে দুই পক্ষ মহাসড়কের দুই পাশে অবস্থান নিয়ে একাধিকবার পাল্টাপাল্টি ধাওয়া চালায় এবং ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। এতে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং মহাসড়কে যান চলাচল কিছু সময়ের জন্য বন্ধ হয়ে যায়। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
ঘটনার বিষয়ে উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক গোলাম কিবরিয়া বলেন, “সভাপতির মৃত্যুর পর নতুন কমিটি গঠনের লক্ষ্যে আমরা আলোচনায় বসেছিলাম। কিন্তু জমিজমা ও আর্থিক বিষয় নিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে সোহেল রানা কারও সম্মতি ছাড়াই মেহেদী হাসান শিপুকে সভাপতি ঘোষণা করেন। এতে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।”
অন্যদিকে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান শিপু বলেন, “কমিটি গঠন নিয়ে যে আলোচনা হচ্ছিল, সেখানে কী হচ্ছে তা দেখতে আমি গিয়েছিলাম। গিয়ে দেখি হট্টগোল চলছে। আমি পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করি, কিন্তু শেষ পর্যন্ত আমার সঙ্গেই বিরোধে জড়ানোর চেষ্টা করা হয়। আমি সভাপতি হওয়ার কোনো আগ্রহ দেখাইনি।”
অভিযোগ অস্বীকার করে শ্রমিক দলের নেতা সোহেল রানা বলেন, “মসজিদের জমি নিয়ে ভুল তথ্য দেওয়া হচ্ছে। আমার দাদা জমি দান করেছেন, পরে আমার বাবা কিছু জমি বন্ধক দিয়েছেন। ১৬ বিঘা নয়, আড়াই বিঘা জমির বিষয় রয়েছে। আমি কোনো ঝামেলা করিনি, বরং প্রতিপক্ষই আগে সংঘর্ষে জড়ায়।”
এ বিষয়ে তারাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রুহুল আমিন বলেন, “মসজিদ কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে এবং উভয় পক্ষকে সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে।”
ঘটনার পর এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। যে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে স্থানীয় প্রশাসন নজরদারি জোরদার করেছে।





