ছেলের মোটরসাইকেলের তেল নিতে দীর্ঘ লাইনে মা
মোঃ খলিলুর রহমান,সাতক্ষীরা ::
সাতক্ষীরার শ্যামনগরের মুন্সিগঞ্জের ডেমলা ফিলিং স্টেশনে তেল নিতে বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) দিনভর ছিল মোটরসাইকেল চালকদের দীর্ঘ লাইন। এই ভিড়ের মাঝেই মোটরসাইকেল নিয়ে লাইন ঠেলতে দেখা যায় বিথিকা রানী বৈদ্যকে (৪৫)।যিনি নিজের কষ্ট ভুলে ছেলের জীবিকা বাঁচাতে তেল সংগ্রহে মোটরসাইকেল নিয়ে লাইনে দাঁড়িয়েছেন।
প্রখর রোদে লাইনে দাঁড়ানো বিথিকা রানী বৈদ্যর চাহিদা মাত্র কয়েক লিটার পেট্রল, যা ফিরিয়ে দিতে পারে তার ছেলে ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেল চালক সাগর বৈদ্যের জীবিকা।জানা গেছে, সাগর বৈদ্যর প্রতিদিনের আয়ের ওপরই নির্ভর করে তার তিন সন্তানসহ পাঁচ সদস্যের সংসার। কিন্তু টানা জ্বালানি সংকটে তার মোটরসাইকেল এখন অচল হয়ে পড়েছে।
জীবিকার তাগিদে বাধ্য হয়ে তিনি মাঠে দিনমজুরের কাজ শুরু করেন। তবে প্রখর রোদে ছেলের এমন কষ্টকর শ্রম মেনে নিতে পারছেন না মা বিথিকা রানী।
আর সেই মমতাই তাকে ঠেলে দিয়েছে তেল সংগ্রহের মতো এক কঠিন পরীক্ষায়।
ছেলের জীবিকা সচল করতে বুধবার (২২ এপ্রিল) রাত থেকেই মোটরসাইকেল নিয়ে পেট্রল পাম্পের লাইনে দাঁড়ান তিনি। বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে মুন্সিগঞ্জের ডেমলা ফিলিং স্টেশনে কথা হয় তার সঙ্গে, তখনও তেল পাননি তিনি।
জানালেন, আগের রাতে খেয়ে লাইনে দাঁড়িয়েছেন। সকাল গড়িয়ে দুপুর হলেও আর কিছু খাওয়া হয়নি। কখন খাবেন, সেটাও জানেন না। তার একটাই ভাবনা- আগে তেল নিতে হবে, তারপর বাড়ি গিয়ে খাবেন।
ক্লান্ত কণ্ঠে বিথিকা রানী বলেন, আমার ছেলে মোটরসাইকেল চালিয়ে সংসার চালায়। তেল না পেয়ে সে এখন মাঠে কাজ করছে। এই রোদে মাঠে কাজ করতে ওর অনেক কষ্ট হচ্ছে। তাই আমি লাইনে দাঁড়িয়ে আছি। যদি আজ তেল পাই, তাহলে আবার সে মোটরসাইকেল চালানোর কাজ শুরু করতে পারবে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, সম্প্রতি সাতক্ষীরার শ্যামনগরের মুন্সিগঞ্জের ডেমলা ফিলিং স্টেশনে তেল বিতরণ ঘিরে বিশৃঙ্খলা ও মারধরের ঘটনার পর টানা পাঁচদিন তেল সরবরাহ বন্ধ ছিল। পরে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে মুন্সিগঞ্জসহ তিনটি ইউনিয়নে সীমিত পরিসরে তেল দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পাঁচদিন পর বৃহস্পতিবার মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়নে তেল সরবরাহ শুরু হয়।
তবে সরবরাহ শুরু হলেও দুর্ভোগ কমেনি। অভিযোগ রয়েছে, সকাল ৭টা থেকে ৯টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত সরকারি-বেসরকারি চাকরিজীবীদের অগ্রাধিকার দিয়ে তেল দেওয়া হচ্ছে। এরপর সাধারণ মানুষের জন্য সীমিত তেল বরাদ্দ রাখা হলেও রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে নিয়মের ব্যত্যয় ঘটছে। অন্যদিকে প্রভাবশালীরা প্রভাব খাটিয়ে সিরিয়াল ভঙ্গ করে তেল নিয়ে চলে যাচ্ছে। আর সাধারণ মানুষ তেলের জন্য হাহাকার করছে।
মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়নের ইউপি সদস্য দেবাশীষ গায়েন জানান, কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার কারণে তেল দেওয়া বন্ধ ছিল। এখন প্রশাসন ও স্থানীয়দের সমন্বয়ে আবার তেল সরবরাহ শুরু হয়েছে। সুষ্ঠু বণ্টন নিশ্চিত করা গেলে সবাই তেল পাবে।





