পাইকগাছায় জামায়াত নেতাকে হেনস্তার অভিযোগ; সালিসি বৈঠক হলো কাল
খুলনা (প্রতিনিধি)
খুলনার পাইকগাছায় পূর্ববিরোধের জেরে জামায়াতের এক নেতাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ, জুতা দিয়ে মারতে উদ্যত এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে হাতাহাতির অভিযোগ উঠেছে এক নারীর বিরুদ্ধে। গত শনিবার (৮ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার রাড়ুলী ইউনিয়নের উত্তর রাড়ুলী গ্রামের ৩ নম্বর ওয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, রাড়ুলী ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের বাইতুল মাল সেক্রেটারি মো. আতিয়ার রহমান সরদার শনিবার দুপুর ২টার দিকে নামাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে একই গ্রামের জহুরা বেগমের সঙ্গে কথা-কাটাকাটির সৃষ্টি হয়। এ সময় জহুরা বেগম তাঁকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং একপর্যায়ে জুতা হাতে মারতে উদ্যত হন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
স্থানীয় এলাকাবাসী জানান, জহুরা বেগমের পারিবারিক জমি নিয়ে তাঁর আপন দেবর আব্দুল মজিদ সরদারের সঙ্গে আগে থেকেই বিরোধ চলে আসছিল। ওই বিরোধের জেরে গত ১৭ জুন স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সমন্বয়ে একটি সালিসি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে জামায়াত নেতা আতিয়ার রহমান সরদারসহ তৈয়েবুর রহমান, আসলাম সরদার, আব্দুল আজিজ সরদার, শরিফুল সরদার ও রবিউল সরদার উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে উভয় পক্ষের মধ্যে বিষয়টি মীমাংসা করে দেন।
এলাকাবাসীর দাবি, ওই বৈঠকে জহুরা বেগমের স্বামী হায়দার আলী উভয় পক্ষের মধ্যে আপস-মীমাংসা করে নেন। এ বিষয়ে একটি লিখিত মীমাংসাপত্রও স্থানীয়ভাবে সংরক্ষিত রয়েছে। তবে জহুরা বেগম ওই মীমাংসা মেনে নেননি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
এদিকে, পরবর্তীতে জহুরা বেগম তাঁর দেবর আব্দুল মজিদ সরদারের ছেলে হাদি হাসানসহ তিনজনকে বিবাদী করে পাইকগাছা বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করার উদ্যোগ নেন। মামলার আবেদন লেখাও হয়েছিল বলে স্থানীয়দের দাবি। তবে শেষ পর্যন্ত তিনি মামলা করেননি। ওই আবেদনের একটি কপিও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের কাছে রয়েছে বলে জানা গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় ১৫ থেকে ২০ জন নারী-পুরুষের দাবি, শনিবারের ঘটনায় জহুরা বেগম প্রকাশ্যে আতিয়ার রহমানকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং একপর্যায়ে জুতা হাতে তাঁকে মারতে উদ্যত হন। পরে আতিয়ার রহমান তাঁকে ‘বেয়াদব’ বলে সেখান থেকে চলে যান। এ পরবর্তী তাঁর স্ত্রী ও বড়ভাবীর সঙ্গে জহুরা বেগমের কথা-কাটাকাটি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।
স্থানীয় সুফিয়া বেগম বলেন, কথা-কাটাকাটি শেষে জহুরা বেগম গোসল করে উপরে ওঠার সময় বাঁশে লেগে তাঁর মাথা কেটে যেতে পারে। তবে আতিয়ার রহমানের সঙ্গে তাঁর কোনো মারামারি হয়েছে-এমন ঘটনা আমরা দেখিনি।
অপরদিকে জহুরা বেগমের দাবি, আতিয়ার রহমান সহ তিনজন মিলে আমাকে মারধর করে মাথা ফাটিয়েছে।





