পাথরঘাটায় বিএনপির হামলায় পা ভাঙলো জামায়াত নেতার
পাথরঘাটা (বরগুনা) প্রতিনিধি:
বরগুনার পাথরঘাটায় জামায়াতে ইসলামীর এক নেতার ওপর অতর্কিত হামলা চালিয়ে পা ভেঙে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বিএনপির এক কর্মীর বিরুদ্ধে। সোমবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে উপজেলার পাথরঘাটা সদর ইউনিয়নের হাড়িটানা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
আহত ব্যক্তি হলেন পাথরঘাটা সদর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতে ইসলামীর বাইতুলমাল সম্পাদক নাসির উদ্দিন (৪৫)। তিনি ওই এলাকার মো. শাহজাহানের ছেলে।
অভিযোগে বলা হয়েছে, অভিযুক্ত নুর আলম (৩৮) একই এলাকার ফজলে করিমের ছেলে এবং সদর ইউনিয়ন বিএনপির একজন কর্মী।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো জামায়াতে ইসলামীর মহিলা শাখার তিন থেকে চারজন কর্মী নিয়মিত দাওয়াতি কার্যক্রমের অংশ হিসেবে এলাকায় কাজ করছিলেন। এ সময় তারা রুহিতা এলাকার বিএনপি কর্মী নুর আলমের বাড়ির সামনে পৌঁছালে তিনি তাদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। বিষয়টি জানাজানি হলে জামায়াত নেতা নাসির উদ্দিন ঘটনাস্থলে যান। সেখানে পৌঁছানোর পর অভিযুক্ত নুর আলম নাসির উদ্দিনের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এতে তার ডান পা গুরুতরভাবে আহত হয় এবং ভেঙে যায়।
পরে স্থানীয়রা আহত নাসির উদ্দিনকে উদ্ধার করে পাথরঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের রেফার করেন।
আহত নাসির উদ্দিন বলেন, “ঘটনার খবর পেয়ে সেখানে গিয়ে দেখি আমার উপস্থিতি দেখেই নুর আলম অকথ্য ভাষায় গালমন্দ শুরু করে। একপর্যায়ে সে আমাকে জিজ্ঞেস করে—‘কাদের সাপোর্ট করো?’ এরপর কোনো কথা না শুনেই আমার ওপর হামলা চালায়।”
ঘটনার পর অভিযুক্ত নুর আলমের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। স্থানীয়দের দাবি, ঘটনার পর থেকেই তিনি আত্মগোপনে রয়েছেন।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে পাথরঘাটা সদর ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. ছগীর হোসেন বলেন, “কথাকাটাকাটির এক পর্যায়ে বিএনপির সমর্থক নুর আলম জামায়াতে ইসলামীর নাসিরের ওপর হামলা করে তার পা ভেঙে দিয়েছে। কেউ অপরাধ করলে তার জন্য আইন রয়েছে, এভাবে হামলা করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।”
এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর মাওলানা মাসুদুল আলম বলেন,
“এই সময় এ ধরনের হামলা কোনোভাবেই কাম্য নয়। জামায়াতে ইসলামীর জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে পরিকল্পিতভাবে এ ধরনের হামলা চালানো হচ্ছে। এর পেছনে রাজনৈতিক ইন্ধন রয়েছে।”
পাথরঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মংচেনলা মুঠোফোনে বলেন, “রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে একটি ঝামেলার খবর পেয়েছি। ঘটনার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। এখন পর্যন্ত কেউ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”




