বানারীপাড়ায় কিশোর গ্যাংয়ের সহিংসতা, মাদকবিরোধী অবস্থান নেওয়ায় যুবককে পিটিয়ে ও কুপিয়ে জখম!
বানারীপাড়ায় কিশোর গ্যাংয়ের সহিংসতা, মাদকবিরোধী অবস্থান নেওয়ায় যুবককে পিটিয়ে ও কুপিয়ে জখম!

বানারীপাড়া প্রতিনিধি।
বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলার সদর ইউনিয়নের কাজলাহার বাজার এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় প্রভাব বিস্তারকারী একটি কিশোর গ্যাং এবার প্রকাশ্যে নৃশংস হামলা চালিয়ে এক যুবককে গুরুতর আহত করেছে। এ ঘটনায় পুরো এলাকায় চরম আতঙ্ক ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।
স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ, কিশোর গ্যাংটির নেতৃত্বে থাকা জিহাদ দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদক ব্যবসা—বিশেষ করে গাঁজা বিক্রির সঙ্গে জড়িত। তার নেতৃত্বে গড়ে ওঠা এই গ্যাংয়ের সক্রিয় সদস্য হিসেবে শুভ, জিসান, রকিব, মেহেদী, হাসিব ও তুহিনের নামও উঠে এসেছে। তারা সবাই মিলে এলাকায় চুরি, ছিনতাই, মাদক সেবনসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
ঘটনার দিন ৪ এপ্রিল সন্ধ্যায় কাজলাহার বাজারে জিহাদের অবৈধ মাদক ব্যবসায় বাধা দেন স্থানীয় যুবক আসিক। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে জিহাদ তার সহযোগী শুভ, জিসান, রকিব, মেহেদী, হাসিব ও তুহিনকে সঙ্গে নিয়ে পরিকল্পিতভাবে আসিকের ওপর হামলা চালায়। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, আসিককে একা পেয়ে তাকে ঘিরে ফেলে লাঠিসোঁটা ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে বেধড়ক মারধর করা হয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।
পরে স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে বানারীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে ।
ঘটনার পরপরই ব্রাহ্মণকাঠী এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, কিশোর গ্যাংয়ের কারণে তারা দীর্ঘদিন ধরে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। বিশেষ করে মাদক ব্যবসার বিস্তার এবং কিশোরদের অপরাধে জড়িয়ে পড়া নিয়ে তারা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত জিহাদসহ তার সহযোগী শুভ, জিসান, রকিব, মেহেদী, হাসিব ও তুহিনকে গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনতে হবে। একই সঙ্গে কিশোর গ্যাং নির্মূলে প্রশাসনের কঠোর ও স্থায়ী পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান তারা।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কোনো কর্মকর্তা এখনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেননি। তবে স্থানীয়দের আশা, দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হলে এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কিশোর গ্যাংয়ের বিস্তার এখন একটি সামাজিক ব্যাধিতে পরিণত হয়েছে। পারিবারিক নজরদারির অভাব, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অনুপস্থিতি এবং সহজলভ্য মাদকের কারণে কিশোররা অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। এ সমস্যা মোকাবিলায় প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ—আইন প্রয়োগের পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা ও পারিবারিক দায়িত্ববোধ বৃদ্ধি।




