বোর্ড পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নে জালিয়াতির অভিযোগ মাদ্রাসা সুপারের বিরুদ্ধে
মাদ্রাসা বোর্ডের খাতা মূল্যায়নে জালিয়াতি, নিজের জন্য বরাদ্দ হওয়া খাতা ইবতেদায়ী শিক্ষক দিয়ে মূল্যায়ন, অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলা সন্তোষপুর ডিএস দাখিল মাদ্রাসা সুপার আবুল হাসান সাইফুল্লাহর বিরুদ্ধে ।
অভিযোগ রয়েছে তিনি আর্থিক সুবিধার বিনিময়ে জালিয়াতি ও তথ্য গোপণ করে যোগ্যতাহীন পঞ্চমশ্রেনীর প্রাথমিক বা এবতেদায়ি শিক্ষক দিয়ে মাদ্রাসা বোর্ডের দাখিল পরীক্ষার খাতা মূল্যায়ন করিয়েছেন। একই মাদ্রাসায় যোগ্যতাসম্পন্ন দাখিলের শিক্ষক থাকলেও তাদেরকে তিনি বোর্ড খাতা মূল্যায়নের সুপারিশ করেননি। সন্তোষপুর দাখিল মাদ্রাসার এবতেদায়ি বা প্রাথমিকের শিক্ষক সফিকুল ইসলাম সেই মাদ্রাসার সুপার আবুল হাসান সাইফুল্লাহর যোগসাজসে এমন অপকর্ম করে আসছেন বছরের পর বছর।
শিক্ষক এবং সুপারের এই যোগসাজশ ও প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ড যা “বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (মাদ্রাসা) জনবল কাঠামো ও এমপিওভুক্ত নীতিমালা ২০২৫” এর ১৮.১ এর (গ) উপ-ধারার সম্পূর্ণ পরিপন্থী ও সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। নীতিমালার উক্ত ধারা অনুযায়ী, ভুয়া/অসত্য তথ্য প্রদান বা জালিয়াতি করলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষক ও প্রতিষ্ঠান প্রধানের এমপিও বাতিলসহ তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ফৌজদারি ও বিভাগীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে।
এই বিষয়ে অভিযুক্ত পঞ্চম শ্রেণীর শিক্ষক সফিকুল ইসলাম জানান আমি পঞ্চম শ্রেণীর শিক্ষক হয়ে দাখিল পরীক্ষার বোর্ড খাতা দেখেছি। খাতা দেখার নিয়মনীতি আমি জানিনা। আমি অনেক বছর দাখিলের বোর্ড খাতা দেখে আসছি এবং সুপার স্যারের স্বাক্ষরিত সুপারিশেই আমি বোর্ড খাতা দেখে আসছি। এই বিষয়ে জানতে চাইলে মাদ্রাসার সুপার আবুল হোসেন সাইফুল্লাহ বলেন, হাঁ এই জালিয়াতি করে আমি কবিরা গুণা করেছি আমাকে মাফ করেদিন। দীর্ঘ ৮ বছর আপনি কবিরাগুনা করে চলেছেন এখন ধরা খেয়ে মাফ চান ? প্রশ্নে তিনি এড়িয়ে যান। এই বিষয়ে ফরিদগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার জানান এটা সুস্পষ্ট এমপিও নীতিমালার লঙ্ঘন।এতে দুই শিক্ষকেরই এমপিও বাতিলসহ আইনগত শাস্তির বিধান রয়েছে। আজ ৮ জুলাই বুধবার এই বিষয়ে ফরিদগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার সেটু কুমার বড়ুয়া জানান বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।




