স্বাধীনতার ৫৫ বছরেও উন্নয়নের ছোঁয়া নেই চর দশশিকা গ্রামে
ওয়াসিম সেখ, সিরাজগঞ্জ
স্বাধীনতার পাঁচ দশকেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলার চর দশশিকা গ্রামসহ আশপাশের অন্তত দশটি গ্রাম এখনো মৌলিক অবকাঠামোগত উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত। স্বাস্থ্য, শিক্ষা, যোগাযোগ—সব ক্ষেত্রেই এই অঞ্চলের মানুষকে নানামুখী ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
২০১৭ সালে ফুলঝোর নদীর উপর একটি সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা করা হলেও প্রায় ১০ বছরেও কাজের অগ্রগতি হয়নি। স্থানীয়দের অভিযোগ, ২০১৯ সালে একজন প্রকৌশলী এসে মাটির পরীক্ষা (সয়েল টেস্ট) করলেও এরপর আর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
এলাকাবাসীর দাবি, প্রভাবশালী মহল ঘুষ ও দুর্নীতির মাধ্যমে প্রকল্প বাস্তবায়ন আটকে দেয়। তাদের অভিযোগ, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল মতিন চৌধুরীসহ কয়েকজন এতে জড়িত ছিলেন।
সেতু না থাকায় প্রতিদিনই স্থানীয়দের জীবনযাত্রা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
স্বাস্থ্যসেবা: জরুরি রোগী বা প্রসূতি মায়েদের সময়মতো হাসপাতালে নেওয়া সম্ভব হয় না। এম্বুলেন্স প্রবেশ করতে পারে না। নৌকা না পেয়ে রোগী মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে।
শিক্ষা: স্কুলগামী শিক্ষার্থীরা নদী পার হতে গিয়ে দুর্ভোগে পড়ছে। বর্ষাকালে ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়।
সামাজিক সমস্যা: অবকাঠামোর দুরবস্থার কারণে অনেক সময় কনে বা বর পক্ষ বিয়ে ভেঙে দেয় বলেও স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন।
ফুলঝোর নদীর উপর সেতু নির্মাণের দাবিতে এলাকাবাসী বারবার উপজেলা, জেলা প্রশাসন এমনকি মন্ত্রণালয়েও আবেদন করেছেন। সেতু মন্ত্রণালয় পর্যন্ত লিখিত আবেদন পাঠানো হয়েছে। সাবেক এমপি ড. হাবিবে মিল্লাত মুন্না বহুবার এলাকা সফরে এসে সেতুর আশ্বাস দিলেও বাস্তবে কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি।
গত বছর এলাকাবাসী গণস্বাক্ষর সংগ্রহ ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন। জাতীয় ও স্থানীয় গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হলেও সরকারের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
চর দশশিকা গ্রামের মানুষদের একটাই দাবি—ফুলঝোর নদীর উপর দ্রুত একটি সেতু নির্মাণ। তাদের প্রশ্ন,
“স্বাধীনতার ৫০ বছর পরও যদি আমাদের এমন ভোগান্তিতে থাকতে হয়, তবে স্বাধীনতার সুফল কোথায় পেলাম?”
এখন দেখার বিষয়—সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কবে এই গ্রামীণ মানুষের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পূরণে এগিয়ে আসে।





