রংপুর-২ আসনের তারাগঞ্জে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ
জুয়েল ইসলাম, তারাগঞ্জ (রংপুর) প্রতিনিধি:
বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনা ও উৎসবমুখর পরিবেশে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ রংপুর-২ আসনের তারাগঞ্জ উপজেলায় শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৭টা থেকে একযোগে উপজেলার ৪৩টি ভোটকেন্দ্রে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। নির্ধারিত সময় অনুযায়ী বিরতিহীনভাবে ভোটগ্রহণ চলবে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত।
সকালের শুরু থেকেই ভোটারদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। নারী-পুরুষ নির্বিশেষে বিভিন্ন বয়সী ভোটাররা লাইনে দাঁড়িয়ে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করছেন। বিশেষ করে প্রথমবারের মতো ভোট দিতে আসা তরুণ ভোটারদের মধ্যেও ছিল ব্যাপক আগ্রহ ও উদ্দীপনা।
উপজেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, রংপুর-২ আসনের তারাগঞ্জ উপজেলায় মোট ভোটার সংখ্যা ১ লাখ ২৫ হাজার ৩৯৫ জন। এর মধ্যে নারী ভোটার ৬২ হাজার ৩১ জন। তৃতীয় লিঙ্গের কোনো ভোটার নেই। অবশিষ্ট ভোটাররা পুরুষ।
ভোটগ্রহণকে কেন্দ্র করে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে ব্যাপক প্রস্তুতি। উপজেলা নির্বাচন অফিস থেকে ব্যালট পেপার, ব্যালট বাক্সসহ প্রয়োজনীয় সকল নির্বাচনী সামগ্রী আগের দিনই কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে প্রতিটি কেন্দ্রে পৌঁছে দেওয়া হয়।
প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত রয়েছেন ২ জন করে পুলিশ সদস্য এবং ১৩ জন আনসার সদস্য। এছাড়াও সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রয়েছে প্রশাসনের নজরদারি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের টহল অব্যাহত রয়েছে কেন্দ্রের আশপাশের এলাকায়, যাতে ভোটগ্রহণ নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়।
এ আসনে জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি), জাতীয় পার্টি ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী—এই পাঁচটি রাজনৈতিক দলের প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তারা শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট দিতে পেরে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। এখন পর্যন্ত কোথাও কোনো অপ্রীতিকর বা বিশৃঙ্খল ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।
নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আশা প্রকাশ করেছেন, দিনের বাকি সময়ও একইভাবে সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য পরিবেশে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হবে এবং গণনার পর যথাসময়ে ফলাফল ঘোষণা করা হবে।
তারাগঞ্জ উপজেলায় শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণের মধ্য দিয়ে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণে সাধারণ মানুষের আগ্রহ ও সচেতনতার প্রতিফলন ঘটেছে বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন মহল।




