রংপুর-২ আসনে নিরঙ্কুশ ব্যবধানে জয়
জুয়েল ইসলাম, তারাগঞ্জ (রংপুর) প্রতিনিধি:
রংপুর-২ (তারাগঞ্জ-বদরগঞ্জ) আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী ও দলটির কেন্দ্রীয় কমিটির নায়েবে আমীর এ টি এম আজহারুল ইসলাম। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত ভোটগ্রহণ শেষে রাতেই প্রাপ্ত ফলাফলে তিনি স্পষ্ট ব্যবধানে জয়লাভ করেন।
রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, এ টি এম আজহারুল ইসলাম মোট ১,৩৪,১৮৭ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মোহাম্মদ আলী সরকার (ধানের শীষ প্রতীক) পেয়েছেন ৭৯,৮৬২ ভোট। এছাড়া জাতীয় পার্টির প্রার্থী আনিছুল ইসলাম মণ্ডল (লাঙ্গল প্রতীক) পেয়েছেন ৩৩,৬৮১ ভোট। এ আসনে মোট পাঁচজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।
সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত একটানা ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। কেন্দ্রগুলোতে ভোটারদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। নারী ভোটারদের অংশগ্রহণও ছিল উল্লেখযোগ্য। কোথাও বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও প্রশাসনের তৎপরতায় নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
এ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩,৮০,৯২১ জন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। বিভিন্ন কেন্দ্রে সকালে ভোটারদের লম্বা সারি দেখা যায়। বিশেষ করে তরুণ ভোটারদের উপস্থিতি ছিল লক্ষণীয়।
রংপুর-২ আসনটি ঐতিহ্যগতভাবে উত্তরাঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ সংসদীয় এলাকা হিসেবে পরিচিত। তারাগঞ্জ ও বদরগঞ্জ উপজেলা নিয়ে গঠিত এই আসনে বরাবরই প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা লক্ষ্য করা যায়। এবারের নির্বাচনে জামায়াত, বিএনপি ও জাতীয় পার্টিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণে প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছিল বহুমাত্রিক।
এ টি এম আজহারুল ইসলাম দেশের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয়। তার প্রার্থিতা ঘোষণার পর থেকেই এ আসনে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়। নির্বাচনী প্রচারণায় তিনি উন্নয়ন, সুশাসন, কর্মসংস্থান ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার তুলে ধরেন। অন্যদিকে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরাও উন্নয়নমূলক বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি নিয়ে মাঠে সক্রিয় প্রচারণা চালান।
নির্বাচন শেষে স্থানীয় ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তারা নতুন সংসদ সদস্যের কাছে এলাকার সড়ক যোগাযোগ উন্নয়ন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সম্প্রসারণ, কৃষিখাতে সহায়তা বৃদ্ধি এবং যুবকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির দাবি জানিয়েছেন।
নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, প্রতিটি কেন্দ্রে পর্যাপ্ত সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন ছিল। নির্বিঘ্নে ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করতে সার্বক্ষণিক মনিটরিং করা হয়েছে। কোনো কেন্দ্র থেকে উল্লেখযোগ্য সহিংসতার খবর পাওয়া যায়নি।
ফলাফল ঘোষণার পর বিজয়ী প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে আনন্দ-উল্লাস লক্ষ্য করা যায়। বিভিন্ন স্থানে তারা মিছিল ও সমাবেশ করেন। তবে প্রশাসন শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
রংপুর-২ আসনের এই ফলাফল স্থানীয় ও জাতীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা। উত্তরাঞ্চলের রাজনীতিতে এ আসন বরাবরই কৌশলগত গুরুত্ব বহন করে আসছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের এই ফলাফলের মাধ্যমে রংপুর-২ আসনে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এখন দেখার বিষয়, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি এলাকার উন্নয়ন ও জনকল্যাণে কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেন।




