গৌরী আরবান উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ, তদন্ত প্রতিবেদন চাইল অধিদপ্তর
ওয়াসিম সেখ, সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি:
সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার গৌরী আরবান উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়-এর প্রধান শিক্ষক আশরাফুল ইসলাম-এর বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ের অর্থ আত্মসাত ও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত প্রতিবেদন চেয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর।
অধিদপ্তরের শিক্ষা কর্মকর্তা স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে সিরাজগঞ্জের জেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে অভিযোগের বিষয়ে প্রয়োজনীয় তদন্ত করে প্রতিবেদন পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আশরাফুল ইসলামের বিরুদ্ধে স্কুলের অর্থ আত্মসাত ও দুর্নীতির বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে।
অভিযোগে বলা হয়েছে, বিদ্যালয়ের ফিক্সড ডিপোজিট (এফডিআর) হিসাবের প্রায় ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা ন্যাশনাল ব্যাংক এবং উপবৃত্তির ৫ লাখ ৭২ হাজার ৫০০ টাকা অগ্রণী ব্যাংক থেকে অনিয়মের মাধ্যমে উত্তোলনের অভিযোগ রয়েছে।
চিঠিতে বিষয়টির সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় মতামত ও প্রমাণসহ ১৫ (পনের) কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন পাঠাতে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। চিঠির অনুলিপি অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, রাজশাহী আঞ্চলিক কার্যালয়ের উপপরিচালক, সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এবং বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও প্রধান শিক্ষকের কাছেও পাঠানো হয়েছে।
এর আগে গত ২১ জুলাই ২০২৫ তারিখে বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষক প্রধান শিক্ষক আশরাফুল ইসলামের বিরুদ্ধে প্রতিষ্ঠানের ফিক্সড ডিপোজিট (এফডিআর) হিসাবের প্রায় ৬০ লাখ টাকা নয়ছয় করে আত্মসাতের অভিযোগ তুলে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বিদ্যালয়ের এফডিআর হিসাবে জমা থাকা প্রায় ৬০ লাখ টাকা প্রতিষ্ঠানের অন্য কাউকে না জানিয়ে উত্তোলন ও নয়ছয় করা হয়েছে। একই সঙ্গে ওই টাকার বার্ষিক মুনাফার অংশও কাউকে অবহিত না করে উত্তোলন করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন শিক্ষকরা।
সরেজমিনে গিয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শিক্ষক জানান, প্রতিষ্ঠানের সুনাম নষ্ট করে প্রধান শিক্ষক এককভাবে এফডিআরের টাকা আত্মসাত করেছেন। তারা অভিযোগ করেন, ওই টাকার মাধ্যমে তিনি গাড়ি-বাড়িসহ বিলাসবহুল জীবনযাপন করছেন।
তারা আরও জানান, বিষয়টি নিয়ে প্রধান শিক্ষক আশরাফুল ইসলামের সঙ্গে কথা বলতে গেলে তিনি সঠিক কোনো ব্যাখ্যা না দিয়ে উল্টো শিক্ষকদের বিভিন্ন অকথ্য ভাষায় শাসিয়ে দেন। পরে বাধ্য হয়ে গত ২০ জুলাই বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়।
তবে এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষক আশরাফুল ইসলাম-এর বক্তব্য জানতে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তা সম্ভব হয়নি।
গৌরী আরবান উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোঃ আবুল কাশেম বলেন বিদ্যালয়ের ফিক্সড ডিপোজিট (এফডিআর) হিসাবের প্রায় ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা ন্যাশনাল ব্যাংক এবং উপবৃত্তির ৫ লাখ ৭২ হাজার ৫০০ টাকা অগ্রণী ব্যাংক থেকে অনিয়মের মাধ্যমে উত্তোলনের অভিযোগ রয়েছে। তার বিরুদ্ধে তদন্ত চলমান।
এদিকে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।





