যমুনেশ্বরীতে গোসলে নেমে নিখোঁজ মাদ্রাসা ছাত্রের মরদেহ উদ্ধার, ২৯ ঘণ্টা পর মিলল সন্ধান
জুয়েল ইসলাম, তারাগঞ্জ (রংপুর) প্রতিনিধি:
রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার কুতুবপুর ইউনিয়নের নাগেরহাট সংলগ্ন যমুনেশ্বরী নদীতে গোসলে নেমে নিখোঁজ হওয়া ১৩ বছর বয়সী এক মাদ্রাসা ছাত্রের মরদেহ প্রায় ২৯ ঘণ্টা পর উদ্ধার করা হয়েছে। শনিবার (২ মে) সকালে স্থানীয় জেলেরা নদী থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করেন।
নিহত শিক্ষার্থীর নাম সুপ্ত (১৩)। সে মিঠাপুকুর উপজেলার ময়েনপুর কদমতলা এলাকার একটি মাদ্রাসার ছাত্র বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার (১ মে) দুপুর প্রায় ১২টার দিকে একই মাদ্রাসার ১২ থেকে ১৩ বছর বয়সী ছয়জন ছাত্র যমুনেশ্বরী নদীতে গোসল করতে নামে। এ সময় হঠাৎ স্রোতের টানে সুপ্ত পানিতে তলিয়ে যায়। সঙ্গে থাকা অন্য পাঁচজন কোনোভাবে তীরে উঠতে সক্ষম হলেও সুপ্ত নিখোঁজ হয়ে যায়।
ঘটনার পরপরই এলাকাবাসী তাকে উদ্ধারের চেষ্টা চালায় এবং বিষয়টি ফায়ার সার্ভিসে জানানো হয়। খবর পেয়ে রংপুর ও বদরগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত টানা অভিযান চালিয়েও তার কোনো সন্ধান মেলেনি।
পরদিন শনিবার সকালে স্থানীয় জেলেরা নদীতে মাছ ধরার সময় সুপ্তর ভাসমান মরদেহ দেখতে পান। পরে তারা মরদেহটি উদ্ধার করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেন।
এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিহতের পরিবারে চলছে আহাজারি। স্থানীয়রা জানান, যমুনেশ্বরী নদীর ওই অংশটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এবং এখানে বালু উত্তোলনের ফলে গভীর গর্ত সৃষ্টি হয়েছে, যা প্রায়ই দুর্ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
উল্লেখ্য, এর আগেও একই এলাকায় একাধিক পানিতে ডুবে মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। গত ২২ এপ্রিল নদীর ওই অংশে বালুর গর্তে পড়ে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়। স্থানীয়দের দাবি, ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলো চিহ্নিত করে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা আরও ঘটতে পারে।
এ বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।




