শাহরাস্তির খিলা বাজারে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দফায় দফায় সংঘর্ষ, ১০ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভাঙচুর; আহত ৮
এইচ এ বাবলু:
চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলার খিলা বাজারে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের দফায় দফায় সংঘর্ষে অন্তত ১০টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় সংঘর্ষে অন্তত ৮ জন আহত হয়েছেন। শনিবার (৪ জুলাই ২০২৬) রাতে এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বাজারের প্রসাধনী ব্যবসায়ী টিটু ও অপর ব্যবসায়ী ফারুক হোসেনের মধ্যে কথা কাটাকাটির ঘটনা থেকে বিরোধের সূত্রপাত হয়। পরে ফারুক হোসেনকে নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য ছড়িয়ে পড়লে খিলা বাজার ও পাথৈ গ্রামের লোকজনের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। রাতের দিকে উভয় পক্ষের লোকজন জড়ো হয়ে দফায় দফায় সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
সংঘর্ষের একপর্যায়ে উত্তেজিত লোকজন লাঠিসোঁটা নিয়ে বাজারে হামলা চালিয়ে অন্তত ১০টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর চালায়। ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে নোমান নকশা হাউস, জনতা ফার্মেসি, জহিরুল ইসলামের বেডিং স্টোর, মাস্টার টেলিকম, সাইফুল স্টোর, সেবা ফার্মেসি, মেডিসিন কর্নার, ফয়েজের হোটেল, ফজর আলী সুবেদারের স’ মিল ও একটি সেলুন। এছাড়া আরও কয়েকটি দোকানে ভাঙচুরের চেষ্টা করা হয়।
ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী নোমান হোসেন জানান, তার দোকান থেকে একটি মোটর লুট করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সাইফুল স্টোরের স্বত্বাধিকারী সাইফুল ইসলাম বলেন, তার দোকানে প্রায় দেড় লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
সংঘর্ষে আহতদের মধ্যে রয়েছেন ইউপি সদস্য ফারুক হোসেনের ছেলে ফাহিম হোসেন, ব্যবসায়ী মিঠু, ফল ব্যবসায়ী আমির হোসেন, ব্যবসায়ী অপু এবং আনু মিয়ার ছেলে সবুজ। এছাড়াও আরও কয়েকজন আহত হয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। গুরুতর আহত একজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
খবর পেয়ে শাহরাস্তি মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
খিলা বাজার ব্যবসায়ী কমিটির সাধারণ সম্পাদক মাহবুব আলম বলেন, “তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে অনাকাঙ্ক্ষিত এ ঘটনা ঘটেছে। আমরা পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করছি। ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”
শাহরাস্তি মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মীর মাহবুবুর রহমান বলেন, “পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”




