টানা বৃষ্টির পর কক্সবাজারে কমছে বন্যার পানি, তবু পানিবন্দী হাজারো পরিবার,
আলফাজ মামুন নুরী
কক্সবাজার প্রতিনিধি
শুকনা খাবার ও সুপেয় পানির সংকট; নিচু এলাকায় এখনো জলাবদ্ধতা,
টানা কয়েক দিনের ভারী বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের পর কক্সবাজারের বিভিন্ন এলাকায় বন্যা পরিস্থিতির ধীরে ধীরে উন্নতি হতে শুরু করেছে। জেলার অধিকাংশ এলাকায় বন্যার পানি কমতে থাকলেও এখনো নিচু অঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা পানির নিচে রয়েছে। ফলে হাজারো পরিবার এখনো পানিবন্দী অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন করছে। বিশেষ করে শুকনা খাবার, বিশুদ্ধ পানি ও প্রয়োজনীয় ওষুধের সংকটে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ।
জেলা প্রশাসন ও স্থানীয় প্রশাসনের তথ্যমতে, সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে চকরিয়া, পেকুয়া এবং নবগঠিত মাতামুহুরী উপজেলা। এসব উপজেলার প্রায় ১৫০টি গ্রামের মানুষ বন্যার কারণে বিভিন্নভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। অনেক এলাকায় বসতঘর, রাস্তাঘাট, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কৃষিজমি এখনো পানিতে তলিয়ে রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল দিবাগত রাত থেকে বন্যার পানি ধীরে ধীরে কমতে শুরু করে। এর ফলে অনেক গ্রামীণ সড়ক থেকে পানি নেমে যাওয়ায় যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। তবে নিচু এলাকার বহু সড়ক ও বসতভিটায় এখনো পানি জমে থাকায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা পুরোপুরি ফিরেনি।
প্রশাসনের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, এখনো পেকুয়া উপজেলায় প্রায় ১৫ হাজার, মাতামুহুরী উপজেলায় ১০ হাজার এবং চকরিয়া উপজেলায় ১৮ হাজার পরিবার পানিবন্দী রয়েছে। এসব পরিবারের অনেকেই ঘরবাড়ি ছেড়ে উঁচু স্থানে কিংবা আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছেন। যারা নিজ বাড়িতে রয়েছেন, তাঁদের অনেকের রান্নার ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে পড়েছে। বিশুদ্ধ পানির অভাব, খাদ্যসংকট এবং শিশু ও বয়স্কদের স্বাস্থ্যঝুঁকি দিন দিন বাড়ছে।
বন্যাকবলিত বিভিন্ন এলাকায় দেখা গেছে, অনেক পরিবার নৌকার মাধ্যমে চলাচল করছে। কোথাও কোথাও টিউবওয়েল ডুবে যাওয়ায় নিরাপদ পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলো সীমিত পরিসরে ত্রাণ বিতরণ করলেও প্রয়োজনের তুলনায় তা অপ্রতুল বলে জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্তরা।
চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহীন দেলোয়ার বলেন, “বেশির ভাগ এলাকা থেকে পানি নেমে গেছে। নিচু কিছু এলাকায় এখনো পানি রয়েছে। বৃষ্টি না হলে সেখান থেকেও দ্রুত পানি নেমে যাবে।”
তিনি আরও জানান, প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। যেসব এলাকায় মানুষ এখনো পানিবন্দী রয়েছেন, সেখানে প্রয়োজনীয় ত্রাণ ও মানবিক সহায়তা পৌঁছে দিতে কাজ চলছে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করা হবে।
এদিকে আবহাওয়াবিদদের মতে, আগামী কয়েক দিনে ভারী বৃষ্টিপাত না হলে জেলার বন্যা পরিস্থিতির আরও উন্নতি হতে পারে। তবে নতুন করে ভারী বর্ষণ হলে নিচু এলাকাগুলোতে আবারও পানি বাড়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
এদিকে স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, তাৎক্ষণিক ত্রাণ সহায়তার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক, বাঁধ, স্লুইসগেট ও পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার দ্রুত সংস্কার করা না হলে ভবিষ্যতে একই ধরনের দুর্ভোগ বারবার ফিরে আসবে। তাই স্থায়ী সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন তারা।





