চকরিয়ায় ছাত্রদল নেতা জিসান হত্যা: দুই নারীসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা,
আলফাজ মামুন নূরী
কক্সবাজার প্রতিনিধি
কক্সবাজারের চকরিয়ায় ছাত্রদল নেতা ইসফাতুল ইসলাম জিসান (২৮) হত্যার ঘটনায় দুই নারীসহ সাতজনের নাম উল্লেখ করে হত্যা মামলা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সকালে চকরিয়া থানায় মামলাটি করেন নিহত জিসানের বড় ভাই কাইছার হামিদ। মামলায় আরও পাঁচ থেকে ছয়জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।
মামলার এজাহারে চকরিয়া উপজেলার কৈয়ারবিল ইউনিয়নের নুরুল হোসেনের মেয়ে রাজিয়া সুলতানাকে এক নম্বর আসামি করা হয়েছে। এ ছাড়া তাঁর চার ভাই নাজেম উদ্দিন, মিজানুর রহমান, মোহাম্মদ জকরিয়া ও মিনহাজ উদ্দিন, নাজেম উদ্দিনের স্ত্রী বেগম নাজেম উদ্দিন এবং নিকটাত্মীয় এ কে তারেককে আসামি করা হয়েছে।
নিহত জিসান চকরিয়া উপজেলার কাকারা ইউনিয়নের দক্ষিণ লোটনী গ্রামের বাসিন্দা নাজেম উদ্দিনের ছেলে। তিনি চকরিয়া উপজেলা ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন বলে জানিয়েছেন সংগঠনটির সভাপতি রেজাউল করিম বাপ্পি।
মামলার বাদী কাইছার হামিদ এজাহারে উল্লেখ করেন, রাজিয়া সুলতানার সঙ্গে তাঁর ভাই জিসানের সম্পর্ক ছিল। পরে তাঁদের মধ্যে সম্পর্কের অবনতি হয়। এর জেরে রাজিয়ার ভাই মিজানুর রহমান জিসানকে বিভিন্ন সময় হুমকি দিয়ে আসছিলেন বলে এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে।
কাইছার হামিদের অভিযোগ, গত রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১১টার দিকে চকরিয়ার কাকারা মাঝেরফাড়ি স্টেশন এলাকা থেকে একদল ব্যক্তি অস্ত্রের মুখে জিসানকে একটি সাদা মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যায়।
এজাহারে আরও বলা হয়, জিসানকে চকরিয়া পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সবুজবাগ এলাকার কবির টাওয়ারে নিয়ে নির্যাতনের পর হত্যা করা হয়। খবর পেয়ে স্বজনেরা ওই ভবনে গিয়ে তাঁকে উদ্ধারের চেষ্টা করেন। তবে কেয়ারটেকার দরজা না খোলায় তাঁরা ভেতরে ঢুকতে পারেননি বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
পরে রাত দুইটার দিকে চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আরিফুর রহমানের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল কবির টাওয়ারে যায়। পুলিশ ভবনের ভেতরে প্রবেশ করে বিভিন্ন স্থানে রক্তের দাগ দেখতে পায় বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
এজাহারে বলা হয়েছে, কবির টাওয়ারে তল্লাশি চলাকালে ওসির মুঠোফোনে মালুমঘাট হাইওয়ে পুলিশের একটি দল খবর দেয়, কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চকরিয়ার খুটাখালী মেধাকচ্ছপিয়া এলাকায় এক যুবকের মরদেহ পড়ে আছে।
পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে রাত তিনটার দিকে হাত-পা বাঁধা ও রক্তাক্ত অবস্থায় জিসানের মরদেহ উদ্ধার করে বলে মামলার বাদী উল্লেখ করেন।
চকরিয়া থানার ওসি মোহাম্মদ আরিফুর রহমান বলেন, জিসান হত্যার ঘটনায় সাতজনের নাম উল্লেখ করে মামলা হয়েছে। নিহতের বড় ভাই কাইছার হামিদ মামলাটির বাদী। এজাহারভুক্ত আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলছে।
চকরিয়া উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি রেজাউল করিম বাপ্পি বলেন, জিসান সংগঠনের একজন উদীয়মান নেতা ছিলেন। হত্যাকাণ্ডের দুই দিন পেরিয়ে গেলেও আসামিদের কেউ গ্রেপ্তার না হওয়ায় তাঁরা উদ্বিগ্ন। দ্রুত হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারের দাবি জানান তিনি।
কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও অভিযান) মো. অহিদুর রহমান পিপিএম বলেন, জিসানের সঙ্গে মিজানের পরিবারের স্বজনদের পূর্বপরিচয় ছিল। তাঁদের মধ্যে আর্থিক লেনদেনও ছিল বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। এ ছাড়া ব্যক্তিগত সম্পর্কের বিষয়ও সামনে এসেছে। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত চলছে বলে জানান তিনি।
পুলিশ বলছে, তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এবং কারা এতে জড়িত, তা আরও স্পষ্ট হবে।





