সিরাজগঞ্জে ঘোষ ছাড়া পুলিশের চাকরি পেলেন ৫৮ জন
ওয়াসিম সেখ, সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি:
চাকরি মানেই ঘুষ, দালাল আর সুপারিশ-এই দীর্ঘদিনের প্রচলিত ধারণাকে ভেঙে সিরাজগঞ্জ জেলা পুলিশ গড়েছে এক অনন্য দৃষ্টান্ত। মাত্র ৪৫ টাকার সরকারি ফি জমা দিয়েই বাংলাদেশ পুলিশের কনস্টেবল পদে নিয়োগ পেয়েছেন ৫৮ জন তরুণ-তরুণী-যা সাধারণ মানুষের মাঝে নতুন আশার আলো জাগিয়েছে।
বুধবার (৬ মে) বিকেলে সিরাজগঞ্জ পুলিশ লাইন্সে ফলাফল ঘোষণা করা হয় এক আবেগঘন পরিবেশে। নাম ঘোষণার পরপরই নির্বাচিত প্রার্থীদের মধ্যে আনন্দ-অশ্রু, উচ্ছ্বাস আর স্বপ্নপূরণের এক বিরল দৃশ্য দেখা যায়। কেউ সহপাঠীকে জড়িয়ে ধরছেন, কেউ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ভাগ করে নিচ্ছেন জীবনের সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত মুহূর্ত।
সিরাজগঞ্জের পুলিশ সুপার মোঃ সাইফুল ইসলাম সানতু (বিপিএম বার) জানান, এবারের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ৪ হাজার ৩০০ জন প্রার্থী অনলাইনে আবেদন করেন। প্রাথমিকভাবে ৫১২ জনকে বাছাই করা হয়। লিখিত পরীক্ষায় অংশ নেন ১০৯ জন এবং সেখান থেকে মেধার ভিত্তিতে ৫৭ জন ও ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী থেকে ১ জনসহ মোট ৫৮ জনকে চূড়ান্তভাবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এছাড়া ১২ জনকে রাখা হয়েছে অপেক্ষমান তালিকায়।
এসপি আরও বলেন, এই নিয়োগপ্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছেন কৃষক, শ্রমিক, রিকশাচালক, চাকরিজীবী ও ব্যবসায়ীদের ছেলে-মেয়েরা। অর্থাৎ সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার পরিবার থেকে আসা প্রার্থীরাই এখানে সমান সুযোগ পেয়েছেন এবং নিজেদের মেধার মাধ্যমে জায়গা করে নিয়েছেন।
তিনি দৃঢ়ভাবে বলেন, এই নিয়োগে কোনো ধরনের ঘুষ, দালাল বা সুপারিশের স্থান ছিল না। সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা ও মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ সম্পন্ন হয়েছে। মাত্র ৪৫ টাকায় সরকারি চাকরি পাওয়া এখন আর স্বপ্ন নয়-এটি বাস্তবতা।
চাকরি পাওয়া এক তরুণ বলেন, আমরা কখনো ভাবিনি এত সহজে ও স্বচ্ছভাবে চাকরি পাওয়া সম্ভব। মনে হচ্ছে জীবনের বড় একটা বোঝা নেমে গেছে। এখন দেশের জন্য কাজ করতে চাই।
একজন অভিভাবক আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, সারা জীবন শুনেছি সরকারি চাকরি পেতে লাখ লাখ টাকা লাগে। আজ আমার সন্তান কোনো উৎকোচ ছাড়াই চাকরি পেয়েছে-এ যেন নতুন বাংলাদেশের চিত্র।
প্রার্থীদের সতর্ক করে পুলিশ সুপার আরও বলেন, চাকরি পাওয়ার পর কোনো প্রতারক চক্র যদি দাবি করে যে তারা চাকরি পাইয়ে দিয়েছে বা কোনো সুবিধা চায়-তাহলে যেন কেউ বিভ্রান্ত না হন। এমন ঘটনা ঘটলে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানাতে বলেন তিনি।
এই স্বচ্ছ ও মানবিক নিয়োগ প্রক্রিয়া শুধু ৫৮টি পরিবারের মুখে হাসি ফোটায়নি, বরং পুরো সমাজে একটি ইতিবাচক বার্তা ছড়িয়ে দিয়েছে-সততা ও মেধা থাকলে কোনো অবৈধ পথ ছাড়াই সরকারি চাকরি পাওয়া সম্ভব।





