টাংগাইলে ৫ম বারের মতো শ্রেষ্ঠ শ্রেণি শিক্ষক সম্মাননা পেলেন মুহাম্মদ শাহীন আল মামুন
নিজস্ব প্রতিনিধি
জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ–২০২৬ এ ৫ম বারের মতো শ্রেষ্ঠ শ্রেণি শিক্ষক হিসেবে সম্মাননা লাভ করেছেন বিন্দুবাসিনী সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়, টাংগাইল – এর সিনিয়র শিক্ষক মুহাম্মদ শাহীন আল মামুন। তাঁর এই অর্জন শিক্ষক সমাজে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে।
শিক্ষাক্ষেত্রে ধারাবাহিক সাফল্যের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি ইতোমধ্যে ৫ বার টাংগাইল জেলার শ্রেষ্ঠ শিক্ষক, ময়মনসিংহ অঞ্চলের ২ বার শ্রেষ্ঠ শ্রেণি শিক্ষক নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর উদ্ভাবনী শিক্ষাদান পদ্ধতি, প্রযুক্তিনির্ভর পাঠদান এবং শিক্ষার্থীদের মানসিক ও নৈতিক বিকাশে নিরলস প্রচেষ্টা তাঁকে অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছে।
আজ ০৬ মে,২০২৬ টাংগাইল সদর উপজেলা মডেল মসজিদ হলরুমে আয়োজিত এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে উপজেলা নির্বাহী অফিসার জনাব মো: শাহীন মিয়া তাঁর হাতে সম্মাননা তুলে দেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার জনাব মো: মজিবুল আহসান।
মুহাম্মদ শাহীন আল মামুন একজন দক্ষ ও নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষক হিসেবে সুপরিচিত। তিনি ২০০৫ সাল থেকে বিভিন্ন ইভেন্টের মাস্টার ট্রেইনার, হেড অব দ্যা মাস্টার ট্রেইনার হিসেবে অসংখ্যবার দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়াও ICT বিষয়ে দক্ষিণ কোরিয়া সরকারের আমন্ত্রণে একাধিকবার বৈদেশিক প্রশিক্ষণের সুযোগ পান। তিনি প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছেন। জাতীয় ও স্থানীয় বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় তিনি নিয়মিত লেখালেখি করে থাকেন। তার লেখা কবিতা, গল্প, উপন্যাস, সাইন্স ফিকশন, আত্বউন্নয়ন মূলক গ্রন্থ পাঠক সমাজে বেশ সমাদৃত। তিনি একজন নাট্যনির্মাতা, আবৃত্তিকার ও শর্টফিল্ম পরিচালক। শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সৃজনশীল কর্মকাণ্ডের সাথে তিনি সরাসরিভাবে সম্পৃক্ত। তাঁর তত্ত্বাবধানে অসংখ্য শিক্ষার্থী বিভিন্ন সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের মাধ্যমে প্রতিভা বিকশিত করার সুযোগ পেয়েছে। তাঁর নির্মিত ও রচিত প্যাকেজ নাটক টিভিতে প্রচারিত হয়েছে। তিনি বিন্দুবাসিনী সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় সাহিত্য সাংস্কৃতিক ক্লাবের দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষক। শিক্ষা সংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি তিনি বিভিন্ন সাংস্কৃতিক, সামাজিক সংগঠনের সক্রিয় সদস্য হিসাবে বিভিন্ন কার্যক্রমে নিয়মিত অংশগ্রহণ করেন।
নিজের অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে মুহাম্মদ শাহীন আল মামুন বলেন, “আলহামদুলিল্লাহ, এই অর্জনে আমি অত্যন্ত আনন্দিত ও কৃতজ্ঞ। শিক্ষক হচ্ছেন জাতি গড়ার কারিগর। একজন আদর্শ শিক্ষক হয়ে জাতি গঠনে সরাসরিভাবে অবদান রাখতে পেরে সত্যিই আমি খুশি। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের স্বপ্নগুলো বাস্তবায়নের পথে আমি আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছি।”
তিনি আরও বলেন, “আমি বিশ্বাস করি, শুধু পাঠ্যপুস্তকভিত্তিক শিক্ষা নয়—শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও মানবিক গুণাবলীতে সমৃদ্ধ করাও অত্যন্ত জরুরি। তাই সহপাঠ কার্যক্রমের ওপর আমি বিশেষ গুরুত্ব দিই। আজকের শিক্ষার্থীরাই আগামীর বাংলাদেশ—তাদের সুশিক্ষিত করতে পারলেই আমরা একটি সমৃদ্ধ, ন্যায়ভিত্তিক ও দুর্নীতিমুক্ত দেশ গড়ে তুলতে পারবো।”
নিজের এই সাফল্যের পেছনে যাঁদের অবদান রয়েছে, তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, “আমার প্রতিষ্ঠান প্রধান জনাব মো: তোফাজ্জল হোসেন স্যারের দিকনির্দেশনা, উৎসাহ ও আন্তরিক সহযোগিতা আমাকে সবসময় অনুপ্রাণিত করে। আমার পরিবার, মা-বাবার দোয়া এবং সহধর্মিণী ও সন্তানদের অকুণ্ঠ সমর্থন আমাকে এগিয়ে যেতে শক্তি জোগায়।”
তিনি বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, তাঁদের সম্মিলিত সহযোগিতা ও অনুপ্রেরণা আমাকে এই সাফল্যের ধারায় প্রতিনিয়ত এগিয়ে নেয়।





