সদরপুরে খাল দখল করে পাকা স্থাপনা নির্মাণ: হুমকির মুখে কৃষিকাজ ও জীববৈচিত্র্য
সদরপুর থেকে শিমুল তালুকদার
ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার সতের রশি গ্রামে একটি গুরুত্বপূর্ণ খাল দখল করে পাকা স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় এক প্রভাবশালী ব্যক্তির মদতে খালের ভেতরে আড়াআড়ি বাঁধ দিয়ে ও ঢালাই করে এই নির্মাণ কাজ চালানো হচ্ছে। এতে খালের স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ বন্ধ হয়ে জলাবদ্ধতা সৃষ্টির পাশাপাশি কয়েকশ একর জমির কৃষিকাজ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
খালের গুরুত্ব ও বর্তমান চিত্র
সতের রশি গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া এই খালটি ওই অঞ্চলের কৃষিজীবী মানুষের প্রাণশক্তি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়:
সেচ সুবিধা: শুকনো মৌসুমে কৃষকরা এই খালের পানি ব্যবহার করে ফসলি জমিতে সেচ দেন।
পাটের আবাদ: বর্ষাকালে পাট জাগ দেওয়া, ধোয়া ও আঁশ ছাড়ানোর জন্য খালটি অপরিহার্য।
মৎস্য সম্পদ: এটি দেশীয় প্রজাতির মাছের অভয়াশ্রম ও প্রজনন ক্ষেত্র হিসেবে পরিচিত।
বর্তমানে খালের একটি বড় অংশ ভরাট করে সেখানে স্থায়ী কাঠামো গড়ে তোলা হচ্ছে। এতে খালের দুই পাশে পানি জমে ইতিমধ্যে কৃত্রিম জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযোগের তীর যাদের দিকে
স্থানীয়দের অভিযোগ, এলাকার প্রভাবশালী ব্যক্তি সিরাজুল হক মুন্সীর নেতৃত্বে খালের পাড়ের বাসিন্দা প্রবাসী আনোয়ার হাওলাদারের স্ত্রী কোনো ধরনের প্রশাসনিক অনুমতি ছাড়াই এই দখলদারিত্ব চালাচ্ছেন। খালের মাঝখানে মাটি ফেলে পানি চলাচলের পথ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং নিচ থেকে ঢালাই দিয়ে স্থায়ী ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে।
কৃষকদের উদ্বেগ
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা জানান, খালের প্রবাহ বন্ধ হয়ে গেলে বর্ষায় যেমন ঘরবাড়ি তলিয়ে যাওয়ার ভয় আছে, তেমনি শুষ্ক মৌসুমে সেচের অভাবে ফসলহানির আশঙ্কা রয়েছে। তারা দ্রুত এই অবৈধ দখল উচ্ছেদ করে খালের স্বাভাবিক গতিপথ ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
প্রশাসনের বক্তব্য
এ বিষয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রিফাত আনজুম পিয়া জানান, বিষয়টি সম্পর্কে তিনি অবগত আছেন। তবে জমিটি ব্যক্তিমালিকানাধীন কি না তা খতিয়ে দেখতে এলাকাবাসীকে লিখিত অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে।
অন্যদিকে, উপজেলা ভূমি অফিসের নাজির কামাল হোসেন নিশ্চিত করেছেন যে, এলাকাবাসী ইতিমধ্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি:
কৃষকের স্বার্থ ও পরিবেশ রক্ষায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে খালটিকে দখলমুক্ত করা প্রয়োজন। অন্যথায় দীর্ঘমেয়াদী সংকটে পড়বে ওই অঞ্চলের কৃষি অর্থনীতি।





