সিরাজগঞ্জে কোরবানির হাটে স্বস্তির বার্তা, চাহিদার চেয়ে ৩ লাখের বেশি পশু প্রস্তুত
ওয়াসিম সেখ, সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি:
পবিত্র ঈদুল আজহা ঘনিয়ে আসতেই সিরাজগঞ্জের গ্রামাঞ্চলে যেন বইছে কোরবানির আমেজ। জেলার ছোট-বড় খামারগুলোতে এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন খামারিরা। বছরের পর বছর শ্রম, যত্ন আর ভালোবাসায় লালন-পালন করা গবাদিপশু বিক্রির অপেক্ষায় প্রস্তুত হয়ে আছে খামারে খামারে।
জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের তথ্য বলছে, চলতি বছরে সিরাজগঞ্জে কোরবানিযোগ্য পশুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ১৭ হাজার ৭২৩টি। অথচ জেলার স্থানীয় চাহিদা রয়েছে মাত্র ২ লাখ ৯৩ হাজার ৬৭৬টি। অর্থাৎ, চাহিদা পূরণের পরও প্রায় ৩ লাখ ২৪ হাজার পশু উদ্বৃত্ত থাকবে, যা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের কোরবানির বাজারে সরবরাহ করা হবে।
খামারিদের ভাষ্য, বাড়তি খাদ্য খরচ ও উৎপাদন ব্যয় তাদের দুশ্চিন্তায় রাখলেও লাভের আশায় তারা পশু পালনে কোনো ধরনের ক্ষতিকর ওষুধ বা হরমোন ব্যবহার করেননি। সম্পূর্ণ দেশীয় ও প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে গরু-ছাগল মোটাতাজা করা হয়েছে।
জেলার বিভিন্ন খামার ঘুরে দেখা যায়, খৈল, ভুসি ও সবুজ ঘাস খাইয়ে পরিচ্ছন্ন পরিবেশে পশু লালন-পালন করা হচ্ছে। অনেক খামারেই এখন ক্রেতাদের আনাগোনা শুরু হয়েছে। খামার মালিকরা চান, ক্রেতারা সরাসরি খামারে এসে পশু দেখে কিনুক।
প্রাণিসম্পদ বিভাগের তথ্যমতে, এ বছর জেলায় ১ লাখ ৯৯ হাজার ৯২৪টি গরু, ৩ লাখ ৬৫ হাজার ৮৫০টি ছাগল এবং ৪৭ হাজার ৭২৪টি ভেড়া কোরবানির জন্য প্রস্তুত রয়েছে। শাহজাদপুর, উল্লাপাড়া ও সদর উপজেলায় পশু উৎপাদনের হার সবচেয়ে বেশি।
ছোঁয়া মনি ডেইরি ফার্মের পরিচালক হাজী আব্দুস সাত্তার বলেন, খামারে দেশীয় পদ্ধতিতে স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশে গরু পালন করা হয়েছে। আমরা চাই ক্রেতারা নিরাপদ ও ভালো মানের পশু পান।
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. এ.কে.এম আনোয়ারুল হক জানান, জেলার ৩৭টি স্থায়ী ও অস্থায়ী পশুর হাটে মেডিকেল টিম প্রস্তুত রাখা হয়েছে। নিরাপদ মাংস উৎপাদন নিশ্চিত করতে নিয়মিত তদারকিও চলছে।
খামারিদের প্রত্যাশা, সীমান্ত পথে ভারতীয় গরুর প্রবেশ নিয়ন্ত্রণে থাকলে দেশীয় খামারিরা ন্যায্য মূল্য পাবেন। আর তাতে লাভবান হবে স্থানীয় অর্থনীতিও।





